মেইন ম্যেনু

এক-এগারোর চেয়েও খারাপ এই সরকার: খালেদা

এক-এগারোর প্রেক্ষাপট নিয়ে দেশের যখন আলোচনা তুঙ্গে তখন এ ব্যাপারে মুখ খুললেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, এই সরকার এক-এগারোর সরকারের চেয়েও খারাপ। এক-এগারোর সরকারের বিচার হলে এই সরকারেরও বিচার হওয়া উচিত।

আজ মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাদের আর্থিক সহায়তা দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

খালেদা জিয়া বলেন, “আজ হাসিনা এক-এগারোর সরকার সম্পর্কে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু তিনিই তো তখন বলেছিলেন এই সরকার আমাদের আন্দোলনের ফসল। তাহলে তার এত ভয় কী, তাকে তো বাদ দেয়া হতো না।”

ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সঙ্গে কোনো আপস-সমঝোতা করেননি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “আমি কারাভোগ করেছি এক বছর আটদিন। আর উনি (শেখ হাসিনা) এগার মাস কারাভোগের পর কাকুতি-মিনতি করে বেরিয়ে আসেন। আমি অনঢ় ছিলাম, কোনো চাপেই দেশ ছেড়ে যাইনি।”

এক-এগারোর কুশীলবদের বিচারে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপি প্রধান। তিনি বলেন, সরকার যদি ওই কুশীলবদের বিচার করতেই চায় তাহলে বাধা কোথায়। তারা তো এখনও বহাল তবিয়তেই আছে। কেউ দেশের বাইরে আছে আবার কেউ কেউ তো দেশেও বিচরণ করছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, “এই সরকার নির্বাচন নির্বাচন খেলা শুরু করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভার পর এবার ইউপি নির্বাচন। কিন্তু দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।”

খালেদা জিয়া দাবি করেন, এই সরকার দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে র‌্যাব-পুলিশের জোরে ক্ষমতায় টিকে আছে।

অনুষ্ঠানে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের দলের পদ-পদবি দেয়ার দাবি উঠে। এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, এটা আমার বিবেচনায়ও আছে। আমিও চাই তারা দলে মূল্যায়িত হোক। এ ক্ষেত্রে আপনার আমাকে সহযোগিতা করবেন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম আমার কাছে দেবেন।

এ সময় খালেদা জিয়া দল পুনর্গঠনে নবীনদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন। তবে প্রবীণ নেতাদেরও দলে প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতারা আজীবন উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তরিকুল ইসলাম, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গোলাম আকবর চৌধুরী প্রমুখ।