মেইন ম্যেনু

এক কাপ কফিতে লাগে ১৪০ লিটার পানি!

আয়েশ করে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ কফি নিয়ে বসতে কার না ভালো লাগে! হোক সেটা নামিদামি কোনো কফিশপ কি নিজের ঘরের একান্ত আমেজে। এই এক কাপ কফির জন্য কফি দরকার স্বাদমতো এক কি দুই চামচ। জানলে অবাক হবেন, এইটুকু কফি উৎপন্ন করার পেছনে খরচ হয় অন্তত ১৪০ লিটারের মতো পানি!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। হন্ডুরাস, কলম্বিয়া, গুয়েতেমালা, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম এবং ইথিওপিয়ার মতো উচ্চমাত্রায় কফি উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর তারা একটি গবেষণা করেছে। এই দেশগুলোর জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে উৎপাদনকারী কৃষকরা দরিদ্র।

‘কফির বিষয়টায় রং চড়িয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব, নানান ভাবে। কারণ এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ধনী দেশগুলোয়, আর এটি উৎপন্ন হয় দরিদ্র দেশগুলোয়’- এভাবেই বলেন আলেক্সান্দার মেয়ার্স। তিনি ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিদ্যা বিভাগের একজন ডক্টরাল ক্যান্ডিডেট।

কফির বীজবপন থেকে শুরু করে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন-সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়ে কৃষকদের। এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ে পরিবেশের উপরেও। মেয়ার্স জানান, সচরাচর ক্ষেত্রে কফি উৎপাদনের খুব বেশি পানি লাগে না।

কৃষকরা চাইলে সামান্য জায়গাতেই ছাউনি দিয়ে কফি উৎপাদন করতে পারেন। তবে এটি একেবারেই অন্যরকম, যদি বিশেষ মাত্রায় বা মানের কফি উৎপাদন করা হয়। তবে, কফি উৎপাদনের দিকেই কৃষকদের ঝোঁক বেশি। অন্য ফসলের উৎপাদনে এমনটা দেখা যায় না। এতে অন্য ফসলের উৎপাদনের পরিমাণে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। এর মধ্যে ২০০১ সালে কফির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে পড়ে যাওয়ার কারণে তাদের পরিবারের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

চমকে দেওয়ার মত তথ্য রয়েছে আরেকটি। গবেষণায় জানা গেছে, বিশেষভাবে কফি উৎপাদনের জন্য খরচ করতে হয় প্রচুর পরিমাণে পানি। সামান্য এক পেয়ালা কফি পানীয়র জন্য প্রয়োজনীয় কফি উৎপাদন করতে খরচ করতে হয় কমপক্ষে ১৪০ লিটার পানি। মেয়ার্স বলেন, প্রকৃতির জন্য এই বিষয়টি অনেক ব্যয়বহুল হয়ে যায়! ‘বিষয়টি এমন যে, আমাদের পছন্দের জন্য প্রকৃতিকে চড়া মূল্য গুণতে হয়, আর এই বিষয়টার প্রভাবও অনেকের ক্ষেত্রে বিশাল।’

শিকাগোতে আমেরিকান স্যোশিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ১১০তম বার্ষিক সম্মেলনে এই সংক্রান্ত গবেষণা উপস্থাপনের কথা রয়েছে মেয়ার্সের।



(পরের সংবাদ) »