মেইন ম্যেনু

এক চা বিক্রেতার সাহিত্যিক হয়ে ওঠার কাহিনী

লক্ষ্মণ রাও৷ দিল্লির ব্যস্ত আইটিও এলাকার চা বিক্রেতা৷ তবে শুধুমাত্র এটাই তাঁর পরিচয় নয়৷ চাওয়ালার নেপথ্যে এক অন্য পরিচয়ও রয়েছে তাঁর৷ যে পরিচয় তাঁকে এনে দিয়েছে বহু পুরস্কার, সম্মান ও খ্যাতি৷ সেই পরিচয়ের জন্যই তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের৷

কী পরিচয়? তিনি একজন সাহিত্যিক৷ জীবনের চড়াই-উতরাইকে নিজের কলমে জীবন্ত করে তুলেছেন লক্ষ্মণ রাও৷ এখনও পর্যন্ত ২৪টি বই লিখে ফেলেছেন লক্ষ্মণ রাও৷ যেসমস্ত বই এখন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টেও পাওয়া যায়৷

কিন্তু লক্ষ্মণ থেকে ঔপন্যাসিক লক্ষ্মণ রাও হয়ে ওঠার পথটা সহজ ছিল না৷ ভিতরের সুপ্ত প্রতিভাকে সযত্নে লালন-পালন করে একটু একটু করে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন তিনি৷ ইচ্ছে থাকলেই যে উপায় হয়, তা নিষ্ঠা ও প্রয়াসের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন৷

লক্ষ্মণ জানান, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন লেখকের বই পড়তে ভালবাসতেন তিনি৷ শেক্সপিয়ারের উপন্যাস থেকে মুনশি প্রেমচাঁদ, যখন যা হাতের কাছে পেয়েছেন পড়ে ফেলেছেন৷ তাঁদের সাহিত্যই তাঁকে লেখার অনুপ্রেরণা জোগাত৷

তবে বাধ সেধেছিল দারিদ্র৷ গরিব পরিবারের ছেলে লক্ষ্মণ অর্থের অভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি৷ দশম শ্রেণির পরই কাজে যোগ দিতে হয় তাঁকে৷ প্রথমে এক চিকিৎসকের অধীনে কাজ করতেন৷ তারপর একটি কাপড়ের কারখানার কাজ করতে শুরু করেন৷ সেখানে পাঁচ বছর কাজ করার পর আইটিও-তে চায়ের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন৷

লক্ষ্মণ বলছেন, চা বিক্রিতেই বেশি লাভ৷ তাই পরিবারের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য চাওয়ালা হলেন লক্ষ্মণ৷ সঙ্গে চালিয়ে গিয়েছেন তাঁর লেখার কাজ৷ এখন এই এলাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় চাওয়ালা তিনি৷ শহরের সব শ্রেণির মানুষই তাঁর চায়ের দোকানে ভিড় জমান৷ ‘চায়ে পে আড্ডা’য় জেনে নেন লক্ষ্মণের জীবনের নানা অজানা কথা৷

কাজের মাঝেই মনের খেয়ালগুলিতে পাতায় লিখে রাখেন৷ প্রথম প্রথম প্রকাশকরা খালি হাতেই ফিরিয়ে দিতেন এই অনামী লেখককে৷ যত দিন গেল, ছবিটাও পাল্টাতে শুরু করল৷ তাঁর লেখা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে৷ শুধু নিজের জীবনের অভিজ্ঞতাই নয়, প্রেম, বিরহ, পুরাণ, দর্শনকেও নিজের লেখনিতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি৷ তাঁর বইগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল ‘রামদাস’৷

লক্ষ্মণের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্ত কোনটি? এই প্রশ্নের উত্তরে লক্ষ্মণের দ্রুত জবাব, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন৷ তাঁর জন্য একটি নাটকও লিখেছিলাম৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর প্রধামন্ত্রীকে দেওয়া হয়নি৷’ বহু স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা থেকে পুরস্কার প্রাপ্ত ৬০ বছরের লক্ষ্মণ রাও সম্প্রতি হিন্দিতে এমএ পাস করেছেন।-সংবাদ প্রতিদিন