মেইন ম্যেনু

এক ডিসির বিদায়ে ৩৫ অনুষ্ঠান!

ময়মনসিংহের ‘আলোচিত’ জেলা প্রশাসক মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকি সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব হিসেবে বদলি হয়েছেন। তার বিদায় উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩টি উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ৩৫টি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনেক আয়োজনই ছিল ব্যয়বহুল। কোনটিতে ঘোড়ার পিঠে চড়েন মোস্তাকিম বিল্লাহ। মঞ্চে উঠেছেন রাজার পোশাক পরেও। উপহার হিসেবে পেয়েছেন সোনার কোটপিনও।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক অনুষ্ঠানে রাস্তার পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয় শিক্ষার্থীদের। ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পক্ষ থেকে মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকিকে উপহার দেওয়া হয় সোনার কোটপিন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা। এক সংবাদকর্মী মন্তব্য করেছেন, ‘বিদায় শেষ, বরণ শুরু। ফুল দোকানের ভালো আয়। নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করতে নতুন করে তৈল মাখা শুরু। চালিয়ে যাও।’

গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ সরকার কুন্ডু বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো হয়নি। স্কাউট দলের সদস্যরা শিল্পকলার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।’

মোস্তাকিম বিল্লাহকে রাজার পোশাক পরিয়ে সিংহাসনে বসিয়ে সংবর্ধনা দেয় স্থানীয় ‘অনসাম্বল থিয়েটার’ নামের একটি নাট্য সংগঠন। ময়মনসিংহ মুসলিম ইন্সটিটিউশনে গত ১০ সেপ্টেম্বর ‘কাজল বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ নামে এই সংবর্ধনা আয়োজিত হয়। তবে ওই অনুষ্ঠান নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় থিয়েটারের সভাপতি আবুল মনসুর বলেন, ‘আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। এটা নিয়ে যে এতো হুলস্থুল হবে তা বুঝতে পারিনি।’

ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুছ সাত্তার কাছে স্বীকার করেছেন, মোস্তাকিম বিল্লাহকে সোনার কোটপিন উপহার দেওয়া হয়েছে।

ঈদুল আজহার ছুটির পর আবারও শুরু হয় সংবর্ধনা। চলে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর প্রভাবে অনেক সরকারি দফতরে কাজেকর্মেও দেখা দেয় স্থবিরতা। শহরের কালীবাড়ি এলাকার মুজাহিদুর রহমান তার অসুস্থ বাবার প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র নিয়ে ডিসি অফিসে এসে বারবার ঘুরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই বলে, ডিসি স্যার নেই। স্যারের বিভিন্ন অফিসে বিদায়ী সংবর্ধনার অনুষ্ঠান আছে। কয়েকদিন পর আসেন।’

রাসেল নামে বলাশপুরের এক বাসিন্দা জানান, তিনি চার দিন ধরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ অফিসে ঘুরছেন। ‘দিনে নাকি এক স্যারের দুই থেকে তিনটি বিদায়ী সংবর্ধনা, এ কারণে অন্যরা অফিসে ঠিকমতো সময় দিতে পারছেন না।’

গত বছর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের আইনে এক বিচারকের মামলার আসামি হয়ে আলোচিত হন মোস্তাকিম বিল্লাহ। তিনি গত ১৮ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ থেকে বিদায় নেন তিনি।

বিদায়ের আগে সদর উপজেলা পরিষদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডিসি বলেন, ‘ময়মনসিংহবাসী আমাকে যে সংবর্ধনা দিয়েছে তা আমি কোনও দিন ভুলবো না। দীর্ঘদিন ময়মনসিংহে কাজ করার সুবাদে ভালোবাসার টানে মানুষ আমাকে এই সংবর্ধনা দিয়েছে। এখানে সমালোচনার তো কিছু নেই।’

তবে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই সংবর্ধনা নিয়ে যা ঘটছে তা যদি আপনারা একটু মাফ করে দেন। আমি আর কি বলতে পারি।’ সিংহাসনে বসিয়ে রাজার পোশাক পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ওই থিয়েটারের আজীবন সদস্য। তাই তারা সংবর্ধনার আয়োজন করে। তবে এভাবে যে বরণ করা হবে তা আমি আগে বুঝতে পারিনি।’