মেইন ম্যেনু

এক তরুণীকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করছে দুই তরুণ

ঘটনাটা চাঁদপুর লঞ্চঘাটের। ভোর বেলা এক তরুণীকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করছেন দুই তরুণ। দুইজনই তরুণীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করছেন। এক পর্যায়ে তরুণীর হাত ছেড়ে দিয়ে দুজনে লিপ্ত হয় মল্লযুদ্ধে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে সে যুদ্ধ। এরমধ্যে লোকজন এসে ঘিরে ধরে দৃশ্য উপভোগ করতে থাকে।

খবর পায় নৌ পুলিশ সদস্যরা। দেখতে চায় তাদের বিয়ের কাগজপত্র। কিন্তু কেউই দেখাতে পারে না কাবিননাম। অবশেষে তাদের তিনজনকেই পাঠানো হয় কারাগারে। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

গৃহবধূর নাম খাদিজা বেগম(২৩)। তিনি বরিশালের বাসিন্দা। স্বামী দাবি করা দুজন তরুণ হলেন- তোফায়েল ও শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের তিনজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়।

সূত্রমতে, বছর সাতেক আগে খাদিজার সঙ্গে বিয়ে হয় শহীদুল ইসলামের। তাদের সংসারে রয়েছে তিন বছরের একটি মেয়ে। তবে উভয়ের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় এক পর্যায়ে শহিদুল তার মেয়েকে নিজের কাছে রেখে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

গত দুই বছর ধরে স্ত্রীর কোনো খোঁজ-খবর না নেয়ায় খাদিজা তার স্বামী শহিদুলকে তালাকনামা পাঠিয়ে দেন। এরপর তোফায়েল নামে আরেকজনের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে খাদিজা ও তোফায়েল বরিশাল থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছালে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় আগের স্বামী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তখন শহিদুল তার স্ত্রী দাবি করে খাদিজাকে তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য টানা-হেঁচড়া শুরু করে। এতে বাধা দেন খাদিজার বর্তমান স্বামী তোফায়েল। শুরু হয় হাতাহাতি।

এক পর্যায়ে খবর পেয়ে নৌ পুলিশ তাদের ৩ জনকেই আটক করে চাঁদপুর মডেল থানায় পাঠায়। মডেল থানা পুলিশ তাদের বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চায়। কিন্তু কেউই তা দেখাতে না পারায় পুলিশ তাদের আদালতে পাঠিয়ে দেয়। পরে আদালত তাদের ৩ জনকেই কারাগারে পাঠায়।