মেইন ম্যেনু

এক নম্বর কো-চেয়ারম্যান হচ্ছেন রওশন

জাতীয় পার্টির এক নম্বর কো-চেয়ারম্যান হচ্ছেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ।

জি এম কাদের ও হাওলাদার ইস্যুতে বিরোধে জড়িয়ে পড়া রওশনের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ তাকে যেকোনো সময় ওই পদে নিয়োগের কথা ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। ফলে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের পরে এক নম্বর কো-চেয়ারম্যান হবেন রওশন এরশাদ, তারপরেই কো-চেয়ারম্যান থাকছেন জি এম কাদের।

অবশ্য, দলের গঠনতন্ত্রে এমন কোনো পদের কথা উল্লেখ নেই। দলের গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারার ক্ষমতাবলে পার্টির চেয়ারম্যান এভাবে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আগামী জাতীয় কাউন্সিলেই দুটি পদ পাস করিয়ে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিরোধীদলীয় নেতাকে এক নম্বর কো-চেয়ারম্যান করার সত্যতা নিশ্চিত করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের রওশনঘনিষ্ঠ এক প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, দলের স্বার্থেই ম্যাডামকে পার্টির এক নম্বর কো-চেয়ারম্যান করা হচ্ছে। তারপরে কো-চেয়ারম্যান থাকবেন জি এম কাদের।

প্রভাবশালী ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে ম্যাডামের কোনো দূরত্ব নেই। তারা স্বামী-স্ত্রী, তারাই দলের অভিভাবক।’ দলের গুটিকয়েক নেতা নিজেদের ফায়দা লুটতেই এরশাদ ও রওশনের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, কাউকে না জানিয়ে জি এম কাদেরকে হঠাৎ করে কো-চেয়ারম্যান করায় কিছুটা ক্ষুব্ধ হন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। কিন্তু সদ্য বাদ পড়া দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রেসিডিয়াম সভা না ডেকে এবং রওশনের কোনো প্রকার স্বাক্ষর ছাড়াই তিনি নিজেই গণমাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়ে এরশাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালান। ওই সময় রওশন এরশাদ গণমাধ্যমে এ নিয়ে একটি কথাও বলেননি। আর এরশাদ ছিলেন রংপুরে।

‘বাবলুর লুকোচুরি’র বিষয়টি বুঝতে পেরে রংপুর থেকে ঢাকায় ফিরেই তিনি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে মহাসচিবের পদ থেকে বাবলুকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি (এরশাদ) রওশনের সঙ্গে বিভাজন সৃষ্টির চক্রান্তকারী হিসেবে বাবলুকে দায়ী করেন। নতুন মহাসচিব হাওলাদারকে নিয়ে বিকেলে রওশনের নেতৃত্বে সংসদীয় সভায় যোগ দেন। সভাশেষে রওশনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন এরশাদ। ওই বৈঠকেই রওশনের সঙ্গে সমঝোতা হয়। জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান রেখেই বিরোধীদলীয় নেতাকে পার্টির এক নম্বর কো-চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব তোলা হলে এরশাদ হাসিমুখেই তা মেনে নেন।