মেইন ম্যেনু

ব্লগার নিলয় হত্যা মামলা: এক বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত

ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে গত বছরের এই দিনে (৭ আগস্ট) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এদিকে, হত্যার এক বছর পরও তদন্ত শেষ করার মত কোনো কিছুই পায়নি তদন্ত সংস্থা ডিবি। তদন্ত শেষ করতে আরো কত সময় লাগবে তাও জানা নেই। তারা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আনছারুল্লাহ বাংলাটিমের সাত সদস্য গ্রেফতার হলেও আরো শনাক্ত চার জনকে গ্রেফতার করতে পারলে তদন্তের কিছুটা অগ্রগতি হবে।

সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ প্রকাশ্যে রাস্তায় খুন হওয়ার তিন মাস না পেরোতেই ঢাকায় খুন হন ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়। ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট (শুক্রবার) ছুটির দিনের শান্ত দুপুরে জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই পূর্ব গোড়ান টেম্পোস্ট্যান্ডের কাছে ৮ নম্বর রোডের ১৬৭ নম্বরের পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ব্লগার নিলয় গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।

মামলার সর্বশেষ অবস্থার বিষয় জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করার মত কোন কিছু পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময় আনছারুল্লাহ বাংলাটিমের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আনছারুল্লাহ বাংলাটিমের আরো চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে তদন্তের কিছুটা অগ্রগতি হবে।’’

মামলার তদন্ত শেষ করতে আর কত সময় লাগতে পারে -জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত শেষ করতে আর কতদিন সময় লাগবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলার তদন্ত শেষ করা হবে।’’

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ানের ১৬৭ নম্বর বাড়ি খুন হওয়ার দিনই হত্যােকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার, যা ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) শাখা।

এছাড়া ঘটনায় ওইদিন রাতে নিহত নিলয়ের স্ত্রী অজ্ঞাত পরিচয় চারজনকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর বিভন্ন সময় আনছারুল্লাহ বাংলাটিমের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। কিন্তু আজ (৭ আগস্ট) এক বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই।

গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে মাওলানা মুফতী আ. গাফফার, মুতুজা ফয়সাল সাব্বির, কাওছার হোসেন সর্দার, কামাল হোসেন সরদার, সাদ আল নাহিদ কারাগারে রয়েছে। এছাড়া মাসুম রানা এবং তরিকুল ইসলাম নামের দুইজন জামিনে রয়েছেন।