মেইন ম্যেনু

এক ব্যক্তিকে পুলিশে সোপর্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রকাশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য নিতে আসা এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ এ ঘটনাটকে বাড়াবাড়ি অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সোমাবার বিকেল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, ছালাতুর রহমান স্টেলিন নামে এক ব্যক্তি গতকাল বিকেলে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য নিতে প্রশাসনিক ভবনে আসেন। প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে তিনি অর্থ সংগ্রহ করেন। এক পর্যায়ে তিনি উপ-রেজিস্ট্রার (উচ্চ শিক্ষা ও বৃত্তি-১) আবুল কালাম আজাদের কক্ষে গিয়ে সাহায্য চান। সেখানে ‘ইরাক-সিরিয়া-আফগান জঙ্গি’ সন্দেহভাজন হিসেবে আজাদ তাকে আটক করেন। এক পর্যায়ে আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দের প্রস্তুতি নেন।

তখন প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পুলিশে সোপর্দ না করতে অনুরোধ করেন। বিকেল তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক ওমর ফারুক তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিুচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ছালাতুর রহমান বিগত সাত-আট বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ সাহায্য নিতে আসেন। তিনি খুব নিয়মিত আসেন না। বছরে দুই-তিনবার তিনি আসেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে সাহায্য করেন। তাকে জঙ্গি বলে কখনও তাদের সন্দেহ হয়নি। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও কথা বলেন ইংরেজিতে। জাতীয় পরিচয়পত্রানুযায়ী তাঁর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি।

এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হয়নি কখনো। তবে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হলেও তিনি সম্ভবত বড় হয়েছেন দেশের বাইরে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘তাকে (ছালাতুর রহমান) বিনামূল্যে চিকিৎসার কথা বললে তিনি জবাব না দিয়ে চলে যেতে উদ্যত হন। এতে আমার সন্দেহ হয়। তাঁর বেশ-ভূষা ইরাক-সিরিয়া আফগান জঙ্গিদের মত। আমার ধারণা তাকে রেকি করতে পাঠানো হযেছে।’
তিনি এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধরণ ডায়রি করেছেন বলেও জানান।

রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রশাসনের অনুমতিতে তাকে (ছালাতুর) পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

উপ-পরিদর্শক ওমর ফারুক জানান, ছালাতুর রহমান থানায় আছেন। রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।