মেইন ম্যেনু

এক ভাইয়ের ফাঁসি, দুই ভাইয়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মহিবুর রহমান বড় মিয়ার ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিট থেকে মোট ২৪০ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তাংশের প্রথম অংশ পাঠ করেন বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদী।

সকাল ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশি প্রহরায় আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

গত ১১ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আদালতে প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা উপস্থিত আছেন।

২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি একই মামলার আসামি মহিবুর ও মুজিবুরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর হোসেন। ২৯ এপ্রিল ধানমন্ডি কার্যালয়ের সেফ হোমে সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে তদন্ত সংস্থা।

এর আগে ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপর ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ি এলাকা থেকে খাগাউড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও তার ছোট ভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়াকে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ। ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তিন আসামিই কারাগারে আছেন।

এরপর ৩১ মে এ তিনজনের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ :
এক. ৭১ সালের ১১ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে আসামিরা।

দুই. তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মেজর জেনারেল এম এ রবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করে।

তিন. একই দিন খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় আসামিদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী মঞ্জুর আলীর স্ত্রী ও আওলাদ ওরফে আল্লাত মিয়ার ছোট বোনকে ধর্ষণ করে। পরে আল্লাত মিয়ার বোন বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

চার. ৭১ সালের ভাদ্র মাসের যেকোনো একদিন আনছার আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালায় আসামিরা। ওই নির্যাতনে পঙ্গু হন আনছার আলী।

২০০৯ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কগনিজেন্স-৪ এর বিচারক রাজীব কুমার বিশ্বাসের আদালতে মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়ার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে মামলাটি (নং- ২৭০/০৯) দায়ের করেন। পরে মামলাটি আদালত থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।