মেইন ম্যেনু

এখনও এ্যানী-টুকুতে জিম্মি ছাত্রদল!

“বড় ভাই না বললে কেউ মাঠে নামে না। আবার বড় ভাইদের কথা ছাড়া ঘর থেকে কেউ নড়েও না।” আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা। ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির শুধু একজন নেতার নয়, প্রায় সবারই এমন আক্ষেপ। কিন্তু সবাই যেন নিরুপায়। কারণ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এসব কথা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে না। তথাকথিত সিন্ডিকেট মাঝখানে তা আটকে দেয়!

এজন্য ছাত্রদলের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক সাবেক দুই সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর দিকে ইঙ্গিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের।অনেকে আবার এদের ছাত্রদলের “বিষফোঁড়া” বলে উল্লেখ করছেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে টুকুকে না পাওয়া গেলেও এ্যানীর দাবি এসব অপপ্রচার। শুধু ছাত্রদল নয়, বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ সংগঠনের অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া। কারো হাতে ছাত্রদল জিম্মির সুযোগ নেই।

অনেক দিন ধরেই নেই বিএনপির কোনো কর্মসূচি। তাই বারবার নানা অজুহাত দিলেও কেন্দ্রীয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর কমিটি না দেয়ার এখন কোনো যৌক্তিক কারণ চোখে পড়ে না। তবুও হচ্ছে না কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।দেয়া হচ্ছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হল কমিটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মতো ইউনিটে নতুন কমিটি।

এই যখন অবস্থা তখন সংগঠন সূত্রের খবর বলছে, সারাদেশে ছাত্রদলের ৮৭টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে সবগুলোর অর্থাৎ শতভাগ কমিটিই মেয়াদত্তীর্ণ। অনেক জেলা কমিটির মেয়াদ ফুরিয়েছে এক যুগেরও বেশি। অনেকটার মেয়াদ পার হয়েছে দেড় যুগ। যে কারণে অনেকের মনযোগ এখন মূল দায়িত্ব রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যে।

আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ছাত্রদলেও দীর্ঘ সেশনজটের কারণে তৈরি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। কেউ হয়তো বহু বছর ধরে কর্মী হিসেবেই রয়ে গেছেন। অথচ এদেরই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন ছাত্রলীগে মোটামুটি নিয়মিত কমিটি হওয়ায় তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নেতৃত্ব। এ নিয়ে ছাত্রদলে আফসোসেরও কমতি নেই।

সূত্র জানায়, ছাত্রদল মূলত তত্ত্বাবধান করেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এই দুই নেতার প্রত্যক্ষ মদদে কমিটি গঠিত হয়। তারাই ছাত্রদলকে পরিচালনা করেন। মূলত এই দুই নেতার সিন্ডিকেটেই বিভক্ত ছাত্রদল।

এছাড়া এ ক্ষেত্রে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) বেলায়েত হোসেনের নামও শোনা যায় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে।

ছাত্রদলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এ্যানী এবং টুকুকে দায়ী করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে এসব দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সংগঠনটিকে যাচ্ছে-তাই ব্যবহার করছেন। তারাই এর জন্য দায়ী।

আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা!

হঠাৎ হঠাৎ আওয়াজ উঠে সবকিছু চূড়ান্ত যেকোনো সময় ঘোষণা হবে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসান ও আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে ১৫৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ঘুরেফিরে অল্প কিছু নেতার দেখা মিললেও অনেককে কর্মীরা ভালো করে চিনেন না। এছাড়া এতোদিনেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেনি রাজিব-আকরাম। অথচ অনেকেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রদলের একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“গ্রেপ্তারের আগে রাজিব ভাই অনেকবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এখনও আশ্বাসের মধ্যে আছি। কখন পূর্ণাঙ্গ হবে বুঝতে পারছি না।”

জানা গেছে, এ্যানী-টুকুর পছন্দের লোককে পদ দেয়ার ভাগবাটোয়ারায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি আটকে আছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ হল কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হবে এমন খবর ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। কমিটিতে কারা আসছেন সে গুঞ্জনও চলছিল। কিন্তু শোনা গেছে এখানেও এ্যানী-টুকু হাত দেয়ায় তা থমকে আছে।

ছাত্রদলের একজন সহ-সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সিনিয়র-জুনিয়রের মিশ্রণে কমিটি দেয়ার চিন্তা করলেও তারা দুজন (এ্যানী-টুকু) চাচ্ছেন জুনিয়রদের দিয়ে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি করতে। সে কারণেই প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও কমিটি হচ্ছে না।

তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি না হওয়ার পেছনে অবশ্য অন্য কারণের কথা বলছেন সংগঠনের নেতারা।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, নানা কারণ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুরানো ঢাকার সাবেক ছাত্রনেতাদের পছন্দের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের মিল না হওয়ায় ঝুলে আছে জগন্নাথের কমিটি। এই কারণটিকেই বড় করে দেখছেন পদ প্রত্যাশীরা।

তবে যখনই হোক পুরান ঢাকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

অন্যদিকে বর্তমানে দুইভাগে বিভক্ত হলেও বিএনপির শীর্ষমহলে মহানগরকে চারভাগ (উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম) করার আলোচনা চলছে। এ কারণেই মহানগরের কমিটি ঝুলে আছে বলে জানা যায়। তবে হলেও বিলম্ব হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকায় কর্মীদের মাঝে একটু হতাশা কাজ করছে। আন্দোলন চাঙ্গা করতে হলে কমিটির বিকল্প নেই।

ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে সে কারণে কমিটি ঘোষণা করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করি ঈদের পরপরই কমিটি ঘোষণা শুরু করতে পারবো।”

এদিকে নিজেদের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুকে পাওয়া যায়নি।

তবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এই ধরনের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “বিএনপিতে কারো সিন্ডিকেট নেই। যারা এই ধরনের কথা বলছে তারা দলের শুভাকাঙ্ক্ষী নয়।” ঢাকাটাইমস