মেইন ম্যেনু

হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে

এখনও পর্যাপ্ত ত্রান সহায়তা পৌছায়নি ভোলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়

মোঃ ফজলে আলম, ভোলা প্রতিনিধি ॥ ঘূর্নিঝড় রোয়ানু আঘাত হানার ২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ঘুরে দাড়াতে পারেনি দক্ষিন উপকূলের মানুষ। নিজেদের সহায় সম্বলের সাথে সাথে ঘূর্নিঝড় রোয়ানু কেড়ে নিয়েছে তাদের মাথা গোজার ঠাই টুকু।

খোলা আকাশই এখন তাদের শেষ ঠিকানা। ক্ষতিগ্রস্ত ৪ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্ধস্ত হলেও এখনও কোন ত্রান সামগ্রী পৌছানি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে। জেলা প্রশাসক মো: সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রশাসনে পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার জন্য ৫০ মেট্রিকটন টন চাল ও নগদ ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকা তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই বন্টন করা হবে বলে জানান।

গত শনিবার ভোরে ঘূর্নিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপ জেলা ভোলার সদর, লালমোহন, চরফ্যাশন, মনপুরা ও তজুমদ্দিনসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভোলায় তজুমদ্দিন উপজেলার বাজারে কয়েশ দোকান পাট ঘর বাড়ী বিদ্ধস্ত হয়ে যায়। এর ফলে ব্যাবসায়ীরা যেমন হারিয়ে তাদের মূলধন। ঠিক তেমনেই অনেকেই তারা মাথা খোজার ঠাই টুকু হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

সরজেমিন ঘুরে দেখা গেছে যে,একদিকে ঝড়ের সতর্কতা সংকেত চলছিলো’অন্যদিকে প্রশাসনের প্রস্তুতির মুখে যখন উপকূলের মানুষ আশ্রয় নিবেন ঠিক তখনি কিছু বুঝে উঠার আগেই শনিবার ভোর রাতে থেকে শুরু হয় ঝড়ের তান্ডব। আর এ ঝড় চলে টানা বিকাল পর্যন্ত।

এতে ভোলার উপকূল লন্ড ভন্ড হয়ে ধ্বংসলীলা পরিনত হয়। মুহুর্তের মধ্যেই জেলা সদর, তজুমদ্দিন, লালমোহন ও দৌলতখান উপজেলার অন্তত ৪ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্ধস্ত হয়। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তজুমদ্দিন উপজেলায়।

Bhola Jor pic-55

সেখানকার ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবী ও দিনমজুরেরা একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে পথে বসেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কিভাবে ঘুরে দাড়াবেন সে চিন্তায় দিশেহারা। বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানিতে ভাসছে বহু পরিবার।

তজুমদ্দিনের ঘের মালির আ: রশিদ জানান, জোয়ারের পানিতে আমার ৪টি মাছের খামারের ১০লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে মাছ ভেসে গেছে। এছাড়াও বসত ঘরটি ভেঙ্গে গেছে।

তজুমদ্দিনের চাদপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন নারী মনোয়ারা, বিলকিস ও সালমা বলেন, ঝড়ে আমাদের ব্যাপ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আমারা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটচ্ছি।

সংবাদকর্মী রফিক সাদী ও এম নুরুন্নবী বলেন, ঝড়টি এতো ভয়াবহ ছিলো মানুষ তা বুঝতে পারেনি, ভারী বর্ষনের সাথে হঠাৎ করেই ঝড়ে আতংকগ্রস্ত হয়ে পরে মানুষ। এ ঝড়ে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ।

লোকমান হোসেন ও ছিদ্দিক বলেন, ঝড় হলেও উদ্ধারকর্মীদের দেখা মেলেনি, আমরা নিজেদের প্রচেষ্টায় বিধবংস্ত থেকে প্রান রক্ষা পেয়েছি।

ক্ষতিগ্রস্ত আরো অনেকেই জানান, ঝড়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন সহযোগীতা পাইনি, কেউ খোজ নিতেও আসেনি।

ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার বলেন,জোয়ারে ইউনিয়নের ১৭ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি।

মদনপুরের বাসিন্দা লুৎফর পাটোয়ারী বলেন, ঝড়ে কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে, ভেসে গেছে হাসঁমুরগী ও পুকুরের মাছ।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে আংশিক ও সম্পূর্ন মিলিয়ে ৪ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ এবং ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৭ লাখ টাকা ও ৫০ মেট্রিন টল চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পরবর্তিতে আরো বরাদ্দ পেলে তা বিতরন করা হবে।

উল্লেখ্য ঝড়ে ৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে-৩ জন নিহত ও অসংখ্য পুকুর ঘের তালিয়ে গেছে। যা টাকার অংকে ৫০ কোটি হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।