মেইন ম্যেনু

অভিজিৎ হত্যার এক বছর

এখনো অন্ধকারে অভিজিৎ হত্যা রহস্য

এফবিআই-এর কাছ থেকে ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়ায় ব্লগার ও বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আর এ কারণেই দফায়-দফায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নিচ্ছে মামলাটির তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তবে মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে আটজন কারাগারে রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে এরইমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার সময় স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে সঙ্গে নিয়ে একুশের গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফিরছিলেন ব্লগার ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে পৌঁছানোর পর দুর্বৃত্তরা অভিজিৎকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। একই ঘটনায় রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন। দুর্বৃত্তদের চাপাতির কোপে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ হয়ে বন্যা যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। অভিজিৎ ও বন্যা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

পরদিন অভিজিতের বাবা অধ্যাপক ড. অজয় কুমার রায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২, ৩২৪, ৩০৭, ৩২৬ ও ৩৪ ধারায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সংস্থাটির ইনসপেক্টর ফজলুর রহমান হলেও শীর্ষ কর্মকর্তারা এ মামলাটির সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন সংস্থাটির সাবেক যুগ্ম-কমিশনার ও বর্তমানে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

এ হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি জানাতে গিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, এ হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেফতার করা হলেও তারাই সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না, নিশ্চিত নই আমরা। যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হত্যাকাণ্ডের আলামতের ফরেনসিক ও আসামিদের ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা এফবিআইয়ের ফরেনসিক রিপোর্ট ও ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। তবে, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরাই অভিজিৎকে হত্যা করেছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত আটজনের মধ্যে একজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। কয়েকজন ইন্ধন দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তবে, কেউই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। পলাতকদের মধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের নাম ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। এছাড়া, আরও ছয়জনের নাম পাওয়া গেছে। তবে, তাদের ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পলাতকদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার পর তারা ১১ ধরনের আলামত পেয়েছেন। ওই আলামতগুলো আদালতের অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তার আশা, ফরেনসিক পরীক্ষায় সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ঘটনার পর দেশে থাকা অবস্থায় অভিজিতের আহত স্ত্রী বন্যার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি ওই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কারও চেহারা মনে রাখার মতো অস্থায় ছিলেন না। অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা। তিনি তাদের জানিয়েছেন, লেখালেখির কারণেই অভিজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন না।

অভিজিৎ হত্যায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য জাফরান হাসান (৫০), শাফিউর রহমান ফারাবী (৩০), মান্না ইয়াহহিয়া ওরফে মান্নান রাহী (২৫), জুলহাস বিশ্বাস (২৪), আবুল বাশার (৪০), সাদেক আলী (২৮), তৌহিদুর রহমান গামা (৫৯) ও আমিনুল মল্লিক (৩৫)।

আদালত সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১১ বার সময় চেয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের ইনসপেক্টর ফজলুর রহমান। প্রত্যেকবার আবেদনেই তিনি এফবিআই-এর কাছ থেকে এখনও ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সেটি না পাওয়ার কারণেই তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না বলে আদালতকে জানান তিনি।

সর্বশেষ গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিএমএম আদালতের বিচারক গোলাম নবীর আদালত থেকে সময় নেন। তদন্তের অগ্রগতি জানানোর পরবর্তী তারিখ রয়েছে আগামী ১০ মার্চ।