মেইন ম্যেনু

এখনো কাতরাচ্ছেন গুলশানে আহত এসআই সুজন

গুলমানে হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে গুরুত্বর আহত হন স্পেশাল ওয়েপন অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (সোয়াট) টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমার কুণ্ডু। তিনি এখনো শরীরে স্প্লিন্টারের যন্ত্রণায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) কাতরাচ্ছেন।

সোয়াট টিমের পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস আকন্দ বলেন, ‘আহতদের মধ্যে সুজনের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। পুলিশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট গলার নিচ থেকে পেট পর্যন্ত কাভার করে। জ্যাকেটে ঢাকা অংশ বাদে সুজনের শরীরের সব অংশে স্প্লিন্টার ঢুকেছে। অপারেশন শেষে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।’

রোববার রাত পর্যন্ত সুজন আইসিইউতে ছিলেন। এঘটনায় সোয়াটের বাকি ৪ সদস্য হলেন নায়েক আক্তার হোসেন, কনস্টেবল মাসুদ, সহকারী এসআই (এএসআই) বাপ্পি, কনস্টেবল সজীব। তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। তবে সুজনের মাথায় হাতে এবং পায়ে অসংখ্য স্প্লিন্টার ঢুকেছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আহাদুজ্জামান ও গুলশানের ওসি সিরাজুল ইসলামসহ বর্তমানে পুলিশের মোট ২২ জন সদস্য ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোববার বিকেলে ইউনাইটেড হাসপাতালে তাদের দেখতে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি এই পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে তাদের ‘জাতীয় বীর’ বলে আখ্যায়িত করেন।

এরআগে, শুক্রবার রাতেই গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে জিম্মি ঘটনার শুরুতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল সোয়াটের একটি স্ট্যান্ডবাই টিম। জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে ছিটকে পরে সোয়াটসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

নিহত হয় ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন খান। সোয়াট টিমের ৫ জনসহ ঘটনাস্থলে আহত হয় ৩০ জনের বেশি পুলিশ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিসান বেকারিতে একদল অস্ত্রধারী ঢুকে বিদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে। সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ওই রেস্টুরেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তাবাহিনী। শুক্রবার গুলশানের জঙ্গি হামলার ঘটনায় দু’জন পুলিশ ও ৬ বন্দুকধারীসহ ২০ জন নিহত হয়েছে।