মেইন ম্যেনু

এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনি

ছয় বছরেও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি বঙ্গবন্ধুর পলাতক ছয় খুনিকে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে ছয়জন এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তারা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, রাশেদ চৌধুরী, নুর চৌধুরী, আবদুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিন। তারা সবাই প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা। পলাতক অবস্থায় মারা গেছেন আরেক আসামি আজিজ পাশা।

পলাতক ছয় খুনির মধ্যে রাশেদ চৌধুরী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং নূর চৌধুরী কানাডায় আছেন। বাকি চারজনের অবস্থান এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি সরকার।

এদিকে খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, আবদুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিন খান সম্পর্কে সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মোসলেম উদ্দিন খান জার্মানিতে পালিয়ে আছেন। তবে জার্মানির কোথায় বসবাস করছেন, তার সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পলাতক বাকি তিনজনের বিষয়েও নানা ধরনের তথ্য আছে সরকারের কাছে। খন্দকার আবদুর রশিদ কোনো সময় পাকিস্তানে কোনো সময় লিবিয়ায়, শরিফুল হক ডালিম পাকিস্তানে, আবদুল মাজেদ সেনেগালে রয়েছেন।

সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি জটিলতা কাটিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া দুই আসামিকে ফেরাতে যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

১৯৭৫ সালে হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সরকারগুলো বঙ্গবন্ধু হত্যার আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার না করে বিভিন্ন সময় পুনর্বাসন করেছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে চাকরিও দেওয়া হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুনিদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ পথপরিক্রমা শেষে ২০১০ সালে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ রায় কার্যকরের আগে আসামি আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তত্কালীন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল মামলাটির রায়ে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভক্ত রায় দেন। রায়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম রুহুল আমিন ১৫ আসামির ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। খালাস দেন পাঁচ আসামিকে। অপর বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ১৫ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। খালাস দেন তিনজনকে। আসামিদের আবেদনের পর ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্ব তিন বিচারপতির বেঞ্চ পাঁচ আসামির আপিল শুনানি গ্রহণ করেন।

এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট আপিল শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওই বছরের ৫ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন। আপিল শুনানির জন্য তত্কালীন প্রধান বিচারপতি এম রুহুল আমিন ওই বছরের ৪ অক্টোবর প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। শুনানি শেষে ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর আসামিদের করা রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও ২৭ নভেম্বর খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। একই দিন রাতে পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে তৎপর টাস্কফোর্স : পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স। টাস্কফোর্স প্রায় দুই বছর ধরে খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ করছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কূটনৈতিক পর্যায়ে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ছয় খুনির জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

সরকারের একটি সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি থাকায় দেশ দুটির সঙ্গে আসামি প্রত্যর্পণ চুক্তি করবে সরকার। চুক্তি হলে দুই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের আইনের আওতায় আনা যাবে।