মেইন ম্যেনু

এখন বাচ্চা নেব না, কয়েক বছর পর বাচ্চা নেব : হ্যাপী

কথা বলার একটা ভয়ানক ভুল। যা আকীদা-বিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে।বিয়ের পরে কাউকে কাউকে এমন কথা বলতে শোনা যায়,”এখন বাচ্চা নেব না, কয়েক বছর পর বাচ্চা নেব”।

“বাচ্চা নেব না” বলার দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য থাকে তারা এমন কোন অষুধ ব্যবহার করবে বা এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করবে, যা সাধারণত গর্ভে বাচ্চা আসতে বাধা প্রদান করে থাকে। এ প্রসঙ্গে প্রথম কথা হলো শরীয়াতসম্মত কোনো ওযর (কারণ) ছাড়া এরূপ করাই ঠিক নয়।তা ছাড়া এসব করলেও কারো কাছে বলার মতো বিষয় নয়,কিন্তু এরচেয়ে জঘন্য ব্যাপার হলো তাদের একথা বলা যে,”এখন বাচ্চা নেব” বা “আমি বাচ্চা নেব না”, যেন বাচ্চা হওয়া বা না হওয়া তাদের নিজেদের কব্জায় অথচ প্রত্যেক মুসলমানই একথা জানে যে, এটি সম্পূর্ণ আল্লাহ তায়ালার কুদরতের অধীন।স্বামী-স্ত্রী যদি গর্ভ সঞ্চারে বাধাদানকারী কোনো কিছু অবলম্বন নাও করে আর হাজারও চেষ্টা করে, তবও অনেক সময় দেখা যায় গর্ভসঞ্চার হয়না,হলেও স্থায়ী হয়না,স্থায়ী হলেও জীবিত ভূমিষ্ঠ হয় না।

পক্ষান্তরে গর্ভ বাধাদানকারী কোনো অষুধ বা কোনো পদ্ধতি অবলম্বনের পরও আল্লাহ তায়ালার হুকুমে বাচ্চা হয়ে যায়।কেননা আল্লাহ তায়ালা যে ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন,তা রূখবার কেউ নেই।এবং যা সেখানে মঞ্জুরকৃত নয়,তা পাওয়ারও কোনো পথ নেই। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এরশাদ করেছেন-

“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই।তিনি যা ইচ্ছা করেন,যাকে ইচ্ছা মেয়ে দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা ছেলে দান করেন।অথবা তাদেরকে ছেলে-মেয়ে উভয় দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন।নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল।” (সূরা – শূরা, আয়াত- ৪৯-৫০)

আল্লাহ আরও এরশাদ করেন-

“আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত খুলে দেন তা রুখবার কেউ নেই এবং তিনি যা রূখে দেন তা তিনি ব্যতীত কোন প্রেরণকারী নেই তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।”

হাদীস শরীফে আছে, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে “আযল” (সহবাসে বাইরে শুক্রক্ষরণ ঘটানো) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এরশাদ করেন,তা তোমরা কেন করতে যাবে? কেননা যত প্রাণী সৃষ্টি হওয়ার তা তো আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করবেনই।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস- ১৪৩৮/১৩২)

তিনি আরও এরশাদ করেন, ” যে পানি থেকে সন্তান হওয়ার তা যদি পাথরেও ফেলো, তা থেকেও আল্লাহ তায়ালা সন্তান সৃষ্টি করবেন। আল্লাহ তায়ালা যত প্রাণী সৃষ্টি করার তা তিনি সৃষ্টি করবেনই।” ( মুসনাদে আহমদ ৩/১৪০)

মোটকথা যে জিনিস বান্দার হাতে নেই, বরং তার সম্পর্ক তাকদীরের সঙ্গে এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরত ও রহমতের সঙ্গে, সে ব্যাপারে এরূপ শব্দবলি ব্যবহার করা, যা দ্বারা সন্দেহ হয়, যেন তা বান্দার কব্জায় -এরূপ আচরণ কোনো মুমিনের জন্য কখনও শোভনীয় নয়। তাই এধরণের কথা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

কিতাব- “প্রচলিত ভুল” (মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক) -হ্যাপীর ফেসবুক থেকে।