মেইন ম্যেনু

এখানে ইঁদুর দিয়ে রান্না করা খাবারই আগে দেওয়া হয় মেহমানদের, জানুন আসল রহস্য…

ইঁদুর! এই ইঁদুর বাঙালি প্রতিটি ঘরে ঘরেই যন্ত্রণার এক নাম। ঘর থেকে ইঁদুর তারাতে কত কি-ই না করে থাকে মানুষ। কেন না, সুযোগ পেলে এই ইঁদুর অনেক মূল্যবান জিনিস-পত্রও কেটে-কুটে নষ্ট করে দেয়। যার কারণে অসংখ্য মানুষের দু’ চোখের বিষ হচ্ছে এই ইঁদুর।

তবে জানেন কি? এই ইঁদুর একটি মানব গোষ্ঠীর কাছে খাবার হিসেবে খুবই প্রিয় ও সুস্বাদু! উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী অদি গোষ্ঠির কাছে ইঁদুরের কদর অনেক। হবেই না কেন, ইঁদুর দিয়ে রান্না করা খাবারগুলোই যে তাদের খাদ্যতালিকার প্রথম স্থান দখল করে রেখেছে। আর বাড়িতে যদি মেহমান আসে তবে ইঁদুর ভাজি ছাড়া যেন তাদের পরিপূর্ণ আপ্যায়নই হয়-ই না।

এদিকে প্রতিবছর ৭ মার্চ এই উপজাতি গোষ্ঠি আয়োজন করে চমকপ্রদ একটি উৎসবের। রান্না করা হয় সুস্বাদু সব খাবার। সবার নজর থাকে রান্না ঘরের দিকে। কখন রান্না করা হবে ইঁদুর দিয়ে নানা পদের তরকারি। এর মধ্যে আবার প্রধান আকর্ষণ ইঁদুরের পাকস্থলি ও যকৃতের সঙ্গে লেজ ও পা মিশিয়ে সেদ্ধ করা তরকারির দিকে। পরিবেশনের পর তা খাওয়া হয় লবন, আদা ও মরিচ দিয়ে।

এই উপজাতির লোকজন সব ধরনের ইঁদুর পছন্দ করে। বাড়িতে পালন করা ইঁদুর থেকে শুরু করে বন্য ইঁদুর, ধেড়ে ইঁদুর, কোনো কিছুই বাদ দেয় না তারা।

ফিনল্যান্ডের ওউলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিক্টর বেনো মেয়ার-রোশৌ দীর্ঘদিন ধরে এ উপজাতি গোষ্ঠি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যত মাংস তারা খেয়েছে তার মধ্যে ইঁদুরের মাংসই সবচেয়ে উত্তম ও সুস্বাদু বলে তারা জানান। আমাকে জানানো হয় যে, ইঁদুর ছাড়া কোনো পার্টি হতে পারে না। কোনো গুরত্বপূর্ণ অতিথি বা আত্মীয়কে খাওয়াতে চান? ইঁদুর লাগবে। খাদ্য তালিকায় ইঁদুর না থাকলে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করাই সম্ভব হয় না। এছাড়া বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার সময় মরা ইঁদুর উপহার দেওয়া হয় বরের আত্মীয়-স্বজনকে।

তিনি আরো বলেন, ‘বড়দিনের সকালে আপনি যেমন আপনার ছেলে-মেয়েদের খেলনা উপহার দিয়ে থাকেন, ঠিক তেমনি তাদের ওই বিশেষ উৎসবের প্রথমদিন ছেলেমেয়েরা পেয়ে থাকে দুটো মরা ইঁদুর।’