মেইন ম্যেনু

এটা মাগুরা কিংবা ঢাকা নয়, বিশ্বনাথ

এম ইলিয়াস আলী। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট-২ আসনের (ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে গাড়ি চালক আনসার আলীসহ ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন তিনি। আজও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

এবার ইলিয়াস পত্নী ও সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনাকেও হুমকি দিলেন বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগ নেতারা। সোমবার বিশ্বনাথে আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রকাশ্যে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে লুনাকে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদও দেয়া হয়। এরপর থেকে লুনা সিলেট বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে তিনি সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) আসনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করে সরকার বিরোধী বক্তব্য ও আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশ নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।

এর ধারাবাহিকতায় তিনি এবার ঈদেও সিলেটের বিশ্বনাথে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করেন। ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী আসনে একাধিক ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানও করেছেন। সর্বশেষ গত শনিবার বিকেলে বিশ্বনাথে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন লুনা। এর একদিন পরই আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে হুমকি দিলেন আরেক অনুষ্ঠানে।

লামাকাজিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইলিয়াস পত্নী বলেছিলেন, ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে ধ্বংস করা যাবে না। তৃণমূল নেতাকর্মীরাই বিএনপির মূলশক্তি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কারণেই সারা দেশে বিএনপি আজ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আর পুলিশ ছাড়া সেই শক্তির মোকাবেলা করার ক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই। সরকার পতনের জন্য আগামী দিনে বেগম খালেদা জিয়া যে আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দেবেন তাতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদ, বিরোধী দলে থাকার পর সিলেটে খালেদা জিয়ার মহাসমাবেশে মানুষের ঢল, সরকারের দুর্নীতি-লুটপাঠের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার তাকে (ইলিয়াস) গুম নামক কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। তবে তিনি (ইলিয়াস) আবারও আপনাদের মাঝে ফিরে আসবেন এবং নেতৃত্বে দেবেন।

ওই অনুষ্ঠানের পর সোমবার বিশ্বনাথে আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী।

সভায় শফিকুর রহমান ইলিয়াস পত্নী উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে বলেই বিএনপি মিথ্যাচার করছে। লুটপাট-দুর্নীতি হচ্ছে না বলেই আওয়ামী লীগের কোনো উন্নয়ন বিএনপির চোখে লাগছে না। অথচ বিশ্বের উন্নত সকল রাষ্ট্র প্রধান ও মিডিয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা চলছে।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি মাহফুজুর রহমান দুলুর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান, সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমির আলী চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুল ইসলাম সুফি, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত আলী, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ছুরাব আলী ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আলতাব হোসেন।

সভায় বক্তারা ইলিয়াস পত্নীকে ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের’ নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার সতর্কতা উল্লেখ করে বলেন,‘ঢাকা কিংবা মাগুরা থেকে ভাড়া আসা কোন ব্যক্তির কথায় বিশ্বনাথবাসী চলবে না। ভবিষ্যতে আর কোন দিন আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পর্ক কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য দিলে এর সঠিক জবাব দেয়া হবে।’

তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন- ‘মনে রাখতে হবে কোন সন্ত্রাসী কিংবা তার স্ত্রীর কাছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাথা নত করবে না।’

বক্তারা আরোও বলেন, ‘বেগম লুনার নেতৃত্বে বিশ্বাসী নন বলেই লামাকাজীতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী সভায় আপনি উপস্থিত হওয়া মাত্রই সে স্থান ত্যাগ করে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন। আর সে দিন সেই সভাতেই যোগ দেননি আপনার দলেরই সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল হাইসহ বিএনপির অনেক ত্যাগী শীর্ষ নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করা আপনার মুখে শোভা পায় না। এটা মাগুরা কিংবা ঢাকা নয়, বিশ্বনাথ। এখানে অস্ত্র নয়, ফুল হাতে দিয়ে দলে দলে মানুষ আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। আওয়ামী লীগকে ভাড়া করে নেতা আনতে হয় না। বিএনপি নেতৃত্ব শূন্য বলেই আপনাকে (লুনা) মাগুরা থেকে ভাড়া করে এনে নেতা বানিয়েছে।