মেইন ম্যেনু

এটিএম থেকে বের হলো বাঁচানোর আর্তি!

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি শহরের ব্যাংক অব আমেরিকার এটিএম বুথ থেকে বের হয় এমন চিরকুট। এক ব্যক্তি এটিএম বুথে গেছেন অর্থ তুলতে। পিন নম্বর টিপলেন। অর্থের পরিমাণও লিখলেন। বের হয়ে এল অর্থ। এরপর বের হওয়ার কথা অর্থ উত্তোলনের রসিদ। কিন্তু তার বদলে বের হয়ে এল হাতে লেখা চিরকুট। লেখা—‘দয়া করে সাহায্য করুন। আমি এখানে আটকে আছি। আমার কাছে ফোন নেই। আমার বসকে ফোন দিন।’

গত ১১ জুলাই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টি শহরের ব্যাংক অব আমেরিকার এটিএম বুথের। চিরকুটটি বেশ কয়েকজনের হাতে গেলেও তারা পাত্তা দেননি। কারণ হিসেবে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, অর্থের হিসাবের তথ্য সম্বলিত প্রিন্টেড কাগজ বের হওয়ার কথা। কিন্তু প্রাণ বাঁচানোর আবেদন পেয়ে অনেকেই মনে করেছেন মজা করার জন্য হতে পারে।

দেশটিতে মানুষকে বোকা বানানো বা চমকে দেয়ার জন্য শুরু হয়েছে বিশেষ ধরনের শো। যা ইউনিটউব ও বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার করা হয়। বোকা বানাতে কেউ এই কাজ করেছে মনে করে কোনো গ্রাহকই এটিকে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু সচেতন এক গ্রাহক এটিএম বুথের সবদিক খেয়াল করে দেখেন কোনো ক্যামেরা বসানো নেই। বাইরে ঠিকই একটি গাড়ি দাঁড়ানো রয়েছে।

বুথের পাশ দিয়ে যওয়ার সময়ে পুলিশের একটি ভ্যান থামিয়ে ঘটনাটি খুলে বলেন তিনি। পুলিশ গিয়ে এটিএম বুথ সংলগ্ন ঘর থেকে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। তিনি প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে আটকা ছিলেন। আর মোবাইল ফোনটি রেখে গিয়েছিলেন বুথের সামনে পার্কিং করা গাড়িতে।

পুলিশ বলছে, ঘটনা শুনে প্রথমে তারা ভেবেছিল কেউ মজা করছেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখল, ভেতরে একজন আটকা পড়েছে। দরজা ভেঙে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

এর আগে পুলিশ চিরকুটে লেখা নাম্বারে ফোন দেন। এক ব্যক্তি রিসিভ করে বলেন, হ্যাঁ..এটিএম বুথটি আমরাই সার্ভিসিং ও মেইনটেইন করি। আজ এক কর্মী গিয়েছিলেন মেশিনটি পরিস্কার ও মেরামতের জন্য। পরে পুলিশ গিয়ে দেয়ালে কান দিয়ে নি:শ্বাস ও হালকা শব্দ শুনতে পান। পরে লোহার দরজার পাশ ভেঙে ভেতরে আটকা কর্মীকে বের করে আনেন।

বের হয়ে কর্মীটি জানান, এটিএম বুথের টেলার মেশিনটি(যে মেশিন টাকা গুনে দেয়) পরিস্কার করার সময়ে পিছনে থাকা দরজাটি হঠাৎ করেই লেগে গিয়ে আমি লকড হয়ে যাই। লোহার দরজাটি অটোমেটেড হওয়ায় ভেতর থেকে ধাক্কা দিয়েও খোলা সম্ভব হয়নি। যেখানে টাকা রাখা হয়, সেই চেম্বারেই ভেতরেই আটকে থাকতে হয়। কোনোভাবেই যখন বের হতে পরছিলাম না, তখন এটিএম মেশিনে থাকা কাগজের রোলারে লিখি, আমি আটকে আছি, আমাকে উদ্ধারের জন্য বসকে ফোন দেন।

তবে, সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে ছিলেন তিনি। পুলিশ ওই কর্মীর নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি। যেহেতু অপরাধ সংঘটিত হয় নি, মালিক, ব্যাংক বা ভুক্তভগী কেউই অভিযোগ দায়ের করেনি, তাই পুলিশ কোনো মামলা করেনি। তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই