মেইন ম্যেনু

এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি: তদন্ত শুরু

ইস্টার্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রবিবার সকাল থেকে এই তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করা হবে।তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এস কে সুর।
গত শুক্রবার বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ডধারী অন্তত ২১ জন গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা উধাও হয়। এ ঘটনায় সব ব্যাংকের জন্য সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে বুথে বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পর ক্লোন কার্ড তৈরি করে অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তোলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।শুক্রবার রাতে বনানী থানায় মামলা করার পর পুলিশও তদন্তে নেমেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেনন, ইউসিবি কর্তৃপক্ষ এজাহারের সঙ্গে বুথের সিসিটিভিতে ধরা পড়া কিছু ভিডিও ফুটেজ দিয়েছে। বনানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন খান জানান, বনানী এলাকায় ইউসিবির কিছু এটিএম বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে গ্রাহকের গোপনীয় তথ্য চুরি করা হয়েছে।

“তদন্তের স্বার্থে এখনই অনেক কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ওই চক্রটিকে ধরতে কাজ করছে।”
বিভিন্ন ব্যাংক তাদের নিজস্ব এটিএম বুথ ছাড়া অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তোলার সুযোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার তাদের ২১টি গ্রাহক হিসাব থেকে অন্য কেউ টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তারা দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করে। তারা নিজেদের এটিএম কার্ড সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা এর আগে জানান, তারা জানতে পেরেছেন কয়েকটি ব্যাংকের ক্যাশ মেশিনে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ লাগিয়ে রেখেছিল কেউ। যে দু-তিন দিন এই ‘স্কিমিং ডিভাইস’ লাগানো ছিল, সে সময় যে গ্রাহকরা এই মেশিনগুলো ব্যবহার করেছেন, তাদের কার্ডের তথ্য চুরি হয়ে গেছে।
শুভংকর সাহা বলেন, “কার্ডের তথ্য চুরি করে সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্লোন-কার্ড তৈরি করা যায়। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তারা যদি এই ক্লোন কার্ডের পিন নম্বরও জোগাড় করতে পারে, তাহলে কার্ডটি ব্যবহার করে তারা টাকাও তুলে নিতে পারে। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি, এ রকমই কিছু আসলে ঘটেছে।” এই ধারণার পক্ষে প্রমাণ হিসেবে কিছু তথ্যও তারা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
শুভংকর সাহা বলেন, শুধু ইস্টার্ন ব্যাংক নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকেও গ্রাহকদের টাকা চুরি যাওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন। তবে অন্য বাংকগুলোর নাম জানাননি তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে সব ব্যাংককে তাদের এটিএম বুথগুলোতে এ রকম কোনো স্কিমিং ডিভাইস কেউ লাগিয়ে রেখেছে কি না তা যাচাই করে দেখতে বলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক বলেন, যাদের কার্ড এভাবে জালিয়াতি হয়েছে, সেসব গ্রাহককে অবিলম্বে জানিয়ে পুরনো কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকদের নামে ৯০ লাখের বেশি ব্যাংক কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫ লাখ ডেবিট কার্ড এবং পাঁচ লাখ ক্রেডিট কার্ড। অন্যদিকে দেশ জুড়ে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় সাত হাজার এটিএম বুথ রয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)