মেইন ম্যেনু

এবার আমির হোসেনের ‘আধুনিক পালকি’

হু-হুম না, হু-হুম না পালকি চলে, পালকি চলেরে…। পালকি ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিয়ের বাহন। পালকি ছাড়া বিয়ের কথা কল্পনাও করা যেত না এক সময়। লাল ফতুয়া, হাতে লাঠি এবং লাঠির মাথায় বল্লম নিয়ে পালকির বাহক ছিল ৪ মল্লা। হু-হুম না, হু-হুম না ধ্বনি দিয়ে বর-কনেকে পালকিতে করে পৌঁছে দিতেন গন্তব্যে। পালকি করে জমিদাররাও বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনে যেতেন। কিন্তু বর্তমান যুগে পালকি শুধুই স্মৃতি।

এখনকার প্রজন্ম হয়ত পালকি জিনিসটার সঙ্গে পরিচিত নয়। তাই নতুন রূপে চাকা লাগিয়ে ইঞ্জিনের সঙ্গে সেটিং করে ৩’শ বছরের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পালকি ‘অটোপালকি’ ফিরিয়ে এনেছেন বগুড়ার যন্ত্রবিজ্ঞানী আমির হোসেন। এবার তিনি এই পালকি আবিস্কারের মাধ্যমে আবার আলোচনায় এসেছেন। ইতোমধ্যেই এই বাহনটির পরীক্ষামূলক কাজ চলছে।

আমির হোসেন বলেন, দেশে বিভিন্ন জেলায় যেগুলো কমিউনিটি সেন্টার আছে সেগুলোতে এই অটোপালকি সংযোজন করতে পারলে তাদের মান আরো বাড়বে। ভাড়াও বেড়ে যাবে ওই কমিউনিটি সেন্টারের। কারণ, বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনের গায়ে হলুদ মাখার জন্য বাড়িতে যোগাযোগের জন্য এই বাহনটিই উপযুক্ত হবে। এছাড়া শিশু পার্কের জন্যও উপযুক্ত হবে। দেশে যেগুলো শিশু পার্ক আছে তাদের মান বাড়ানোর জন্য এই অটোপালকি নিয়ে পার্কের বিনোদনের কাজও হবে, উপরন্তু মাঝেমধ্যে এটা বিয়ে কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাড়া দিতে পারবে।

আমি হোসেনের আশা, শিশুপার্ক কিংবা দেশের যেগুলো কমিউনিটি সেন্টার আছে তারা ৩’শ বছরের এই ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন প্রজন্মকে বোঝাতে পারেন এই সেই পালকি।

তিনি জানান, এই পালকিটিতে আসন সংখ্যা রয়েছে ২২টি। পর্যায়ক্রমে আরো বাড়ানো যাবে আসন। পালকিটি প্রতি ঘন্টায় পেট্রোলে চলবে ১২ কিলোমিটার। এই পালকির গতি ৩০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। যন্ত্রচালিত এই পালকিটির মূল্য ৮ লাখ টাকা।

তার মতে, সরকার চাইলে বিদেশি অতিথিদের এয়ারপোর্ট থেকে অভ্যর্থনা দিয়ে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করতে পারেন আমাদের দেশীয় গ্রামীণ বাহন পালকি। তা দেখে তারাও অবাক হতেন এবং এতে করে দেশের মান বাড়ত। কারণ, বৃটিশ রাজকীয় কোনো অনুষ্ঠান হলে এই ধরনের বাহন মাঝে মধ্যে তারা বের করে থাকেন। তাই বাংলাদেশের সরকার এ ধরনের বাহন ভিআইপি অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

এর আগে আমির হোসেন তৈরি করেন মাছের খাদ্য, মুরগির খাদ্য, গো-খাদ্য, চিকন সেমাই মেশিন, ইট ও পাথর ভাঙা মেশিন, ধান ও ভুট্টা মাড়াই অটো মেশিন, গুটি ইউরিয়ার সার, জৈব সার তৈরি মেশিন, ধান কাটা মেশিন, জমি চাষযন্ত্র, ইট তৈরি পরিবেশবান্ধব অটোমেশিন, পাটের রিবর রেটিং ছালকরণ মেশিন, অটো পামওয়েল মেশিন, সুগারবিট থেকে গুড় ও চিনি তৈরির অটো মেশিন, জ্বালানিবিহীন গাড়ি। যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমাদৃত। তিনি দেশ-বিদেশে কৃষি পদক পেয়েছেন।