মেইন ম্যেনু

এবার কাগজ দিয়েই তৈরী হলো যাত্রিবাহী নৌকা!

কাগজের নৌকা কি আর পানিতে চলে! চললেও তাতে কি আর ভ্রমণ করা যায়? এবার কাগজ দিয়ে রীতিমতো যাত্রিবাহী নৌকা বানিয়েছেন জার্মানির কয়েকজন শিক্ষার্থী। এতে তারা আনন্দভ্রমণও করেছেন।

ওরা ১০ জন: জার্মানির এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী যা করে দেখালো, তা সত্যিই অবাক হওয়ার মতো৷ গত বছর থেকে ব্রেমারহাফেনের মেরিটাইম মিউজিয়ামে কাগজ আর কার্ডবোর্ড নিয়ে নৌকা বানানো শুরু করেছিল তারা৷

সঙ্গে অবশ্য নৌকা তৈরিতে পারদর্শী আক্সেল ডোরমানও ছিলেন৷ তাঁর তত্ত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রীরাই বেশির ভাগ কাজ করেছে৷ কষ্ট হয়েছে, সময়ও লেগেছে অনেক৷ তৈরি শেষ হলে ক্রেনে উঠিয়ে নৌকাটি নিয়ে আসা হয় নদীতে৷

নৌকা বানিয়ে রেখে দিলে তো হবে না৷ ওরা কাগজ আর কার্ডবোর্ড দিয়ে নৌকাটা বানিয়েছে তো ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের জন্য৷ অবশেষে এলো সেই দিন৷

আক্সেল ডোরমান এবং মেরিটাইম মিউজিয়ামের কর্মকর্তা গেরো ক্লেমকে-কে সঙ্গে নিয়ে পাক্কা মাঝিদের মতো নৌকা ভাসালো দশজন কিশোর-কিশোরী৷

0,,18595626_303,00

তিন বছরের পরিকল্পনা: কাগজের নৌকা আগেও বানানো হয়েছে৷ তবে সেগুলো ছিল ছোট এবং স্বল্পস্থায়ী৷ সপ্তাহখানেক পানিতে রাখার পর আপনা-আপনিই নৌকার নানা অংশ ভিজে খসে খসে পড়তো৷

এবারের নৌকা সেগুলোর চেয়ে বড়৷ শুধু তাই নয়, ৩ দশমিক ২০ মিটার দীর্ঘ এই নৌকা টিকবেও বেশি দিন৷ গেরো ক্লেমকে আশা করছেন, তিন বছর অন্তত টিকবে এটি এবং মাঝে মাঝে এটা পানিতে ভেসেও বেড়াবে৷

যেভাবে তৈরি হলো: প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা নৌকাটি তৈরি করাটা ছিল বড় রকমের চ্যালেঞ্জের মতো৷ আক্সেল ডোরমান এবং গেরো ক্লেমকে-র নেতৃত্ব এবং প্রেরণায় সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলও হয়েছে গোর্চ-ফোক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা৷

৯ হাজার কাগজ আর ৮০টি বোর্ড: নৌকার কাঠামোর একটি অংশ অবশ্য কাঠ দিয়ে তৈরি৷ কাঠ একেবারেই ব্যবহার না করলে তো নৌকাটি মানুষের ওজনই নিতে পারতো না৷ যা হোক, ওই কয়েক টুকরো কাঠের বাইরে আর কী লেগেছে জানেন?

খবরের কাগজের ৯ হাজারটি পৃষ্ঠা এবং ৮০ টুকরা ধূসর রঙের কার্ডবোর্ড৷ ছবিতে ক্লেমকে-র সঙ্গে কাগজে কাগজ জোড়া দিচ্ছে লিয়া৷

0,,18595621_303,00

কর্মযজ্ঞ: নৌকা তৈরির মূল কাজটা হয়েছে মেরিটাইম মিউজিয়ামের এই কক্ষে৷ এখানেই ৯ হাজার কাগজে আঠা লাগিয়ে লাগিয়ে দাঁর করানো হয় মূল কাঠামো৷ কাগজের ৩৪টি স্তর আঠা দিয়ে লাগিয়ে তৈরি করা হয় নৌকাটি৷

তৈরি শেষে নির্ধারিত দিনে ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রেমারহাফেন শহরের নদীতে৷ আর তারপর? সেই আনন্দভ্রমণ!

সূত্র: ডিডাব্লিউ