মেইন ম্যেনু

এবার কান ধরলেন ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানধরে ওঠবস করানোর প্রতিবাদ ও সাংসদ সেলিম ওসমানের বিচারের দাবি জানিয়ে এবার কান ধরে অবস্থান নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে কান ধরে ১০ মিনিট অবস্থান নেয় তারা। এতে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, ‘এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা প্রতীকী অবস্থান নিলাম। এ ঘটনা পুরো জাতির লজ্জা। আমি এর দ্রুত বিচার দাবি করছি।’

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি এবং শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দির পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দেয়ার পর কান ধরে উঠবস করানো হয়।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে এ শিক্ষককে হেনস্তা করা হয়।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদের মুখে মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির করে শিক্ষা অধিদপ্তর। সন্ধ্যায় ওই কমিটি পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনও করে। কথা বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

এদিকে পিটুনির শিকার শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ৪ অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেয়।

শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। ‘সরি স্যার’, ‘উই আর সরি স্যার’, ‘কান ধরে হোক প্রতিবাদ’ লেখা হ্যাশট্যাগ দিয়ে এই ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী। প্রতিবাদ জানাতে কানে ধরা অবস্থায় তোলা নিজেদের ছবিও পোস্ট করেছেন অনেকে।

#sorrysir হ্যাশট্যাগে দেখা গেছে শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় অনেকেই ক্ষমা চাচ্ছেন। একজন শিক্ষককে এমন ‘ঘৃণ্য’ উপায়ে অপদস্থ করার বিষয়ে পুরো জাতির দায় স্বীকার করেছেন কেউ কেউ।