মেইন ম্যেনু

এবার ধর্মঘট করছেন জাহাজ মালিকরা

নৌযান শ্রমিক ধর্মঘটের অবসান হলেও এবার ধর্মঘট করছেন জাহাজ মালিকরা। সরকারের প্রস্তাবিত নতুন মজুরি হারে একমত না হওয়ায় তারা পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখেছেন।

ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বিভিন্ন মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। লাইটার জাহাজ মালিকরা ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের সিরিয়ালে জাহাজ দিচ্ছেন না।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সভায় নৌযান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নয় হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে নৌযান শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট স্থগিত করেন। কিন্তু ওইদিন সভার একপর্যায়ে জাহাজ মালিকরা সভাস্থল ত্যাগ করেন।

শ্রমিকদের নতুন হারে মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা বুধবার থেকে পণ্য খালাস ও পরিবহনের জন্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের জাহাজ সিরিয়াল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। জাহাজ মালিকদের এই অবস্থানের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদনে সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে বহির্নোঙরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা পণ্য খালাস ও পরিবহনের জন্য তাদের জাহাজ সিরিয়াল না দিলেও বিভিন্ন সিমেন্ট কারখানা মালিকদের নিজস্ব জাহাজগুলো চলছে এবং পণ্য খালাস ও পরিবহন করছে।

এছাড়া জ্বালানি তেলের ট্যাংকার চলছে সীমিত পর্যায়ে। বহির্নোঙরে সাতটি ক্লিংকার জাহাজ থেকে লাইটারিং চলছে। তবে বহির্নোঙরে অবস্থানরত ৬২টি মাদার ভেসেল থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন বিসিভোয়ার সিনিয়র সহসভাপতি খুরশিদ আলম বলেন, ‘শ্রমিকদের যে মজুরি হার নির্ধারণ করা হয়েছে, এতে আমাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। তাই আমরা সেটা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার-নির্ধারিত শ্রমিকদের বেতনকাঠামো কার্যকর করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পণ্য খালাস ও পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজগুলোর ৭০ শতাংশের ক্ষমতা ১২০০ টনের নিচে। প্রস্তাবিত মজুরি হার কার্যকর করলে যে খরচ বৃদ্ধি পাবে, তা পরিশোধ করতে গেলে এ ধরনের জাহাজগুলো বড় ধরনের লোকসানে পড়বে।’

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব চৌধুরী আশিক আলম বলেন, ‘আমরা এখন ধর্মঘটে নেই। সরকার আমাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছে নীতিগতভাবে। কিন্তু এখন মালিকরা জাহাজ চালু রাখবেন কি না, সেটা তাদের ব্যাপার।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবারের বৈঠকে ‘ক’ শ্রেণির নৌযান শ্রমিকদের মূল বেতন ১০ হাজার টাকা, ‘খ’ শ্রেণির বেতন সাড়ে ৯ হাজার টাকা এবং ‘গ’ শ্রেণির শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নয় হাজার টাকা নির্ধারণ হয়। এটা পুনর্বিবেচনার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এর আগে মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে গত ২০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন। এরপর যাত্রীবাহী নৌযান ধর্মঘট ২২ এপ্রিল মধ্যরাতে স্থগিত করা হয়।