মেইন ম্যেনু

এবার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মুসলমান যুবকরাও!

যশোর জেলায় এ বছর ৬২৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে গঠিত কমিটিতে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলমান যুবকদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এলাকার স্বার্থে মুসলমান সদস্যরা এসব কমিটিতে স্বেচ্ছায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন। এছাড়া মণ্ডপের নিরাপত্তায় আনসার ভিডিপি ও পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের নিয়মিত টহল থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যশোর শহরের লালদিঘি এলাকার পূজা মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের জন্যে ইতোমধ্যে হিন্দু যুবকদের পাশাপাশি মুসলিম যুবকরাও কাজ করছেন। এখানকার স্বেচ্ছাসেবক কমিটির আহ্বায়ক মো. রায়হান সিদ্দিকী ময়না জানান, তাদের কমিটি এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তবে, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তিনি ছাড়াও ইতোমধ্যে ১৭ জন বিভিন্ন বয়সীদের নিয়ে একটি সভা তারা করেছেন। এর মধ্যে ৮ যুবকই মুসলিম।

এক প্রশ্নের জবাবে মো. রায়হান সিদ্দিকী ময়না জানান, হিন্দু-মুসলিম হচ্ছে জাতি; কিন্তু সবাই আমরা মানুষ। উৎসব হচ্ছে সর্বজনীন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, হিন্দুরা পূজা-অর্চনা করেন। কিন্তু উৎসবে সবাই শামিল হবে—এটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন বলেন, ‘প্রতি বছরই শারদোৎসবে মুসলিম যুবকরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আমাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করেন। তবে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই আমরা স্বেচ্ছাসেবকদের কমিটি গঠন করবো।’

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ আবু সরোয়ার বলেন, ‘মণ্ডপ এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে হিন্দু-মুসলিমদের যৌথ স্বেচ্ছাসেবক কমিটির বিষয়ে এখনও পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা আমাদেরকে কিছু জানায়নি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে বসবো।’

এদিকে মণ্ডপগুলোতে এখন চলছে প্রতিমা গড়া ও সাজসজ্জার কাজ। সন্ত্রাস ও নাশকতার কথা মাথায় রেখে মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘যশোর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবছরও সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূর্জা পালিত হবে। হিন্দু-মুসলিম মিলিতভাবে নির্বিঘ্নে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে মণ্ডপে কাজ করছে।’

যশোরের আটটি উপজেলায় এ বছর ৬২৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা যোগেশ চন্দ্র সরকার জানান। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১৩৫টি, কেশবপুরে ৮৯টি, চৌগাছায় ৪৮টি, শার্শায় ২৬টি, ঝিকরগাছায় ৪৭টি, অভয়নগরে ১১৭টি, মণিরামপুরে ৮৪টি ও অভয়নগরে ৮৩টি মণ্ডপে এবছর দুর্গা প্রতিমা স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব মণ্ডপের সাজসজ্জা, প্রতিমা গড়াসহ দুর্গাপূজার প্রাথমিক আয়োজনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ৭ অক্টোবর মন্দিরে প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ৮ অক্টোবর কুমারী পূজা ও ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের।

এদিকে, গত বছর জেলার আটটি উপজেলায় ৬৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হলেও এবছর জলাবদ্ধতার কারণে জেলার মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুরের বেশকিছু এলাকায় দুর্গোৎসব আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।

দীপংকর দাস রতন বলেন, ‘অতি বর্ষণের ফলে এব ছর যশোরের কেশবপুর, অভয়নগর ও মণিরামপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বহু পরিবার এলাকা ও ঘরবাড়ি ছাড়া। ফলে এসব এলাকায় এ বছর দুর্গাপূজা আয়োজনে বিঘ্ন ঘটছে।’

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুণ্ডু বলেন, ‘ইতোমধ্যে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমাদের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। পুলিশ সুপার আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক পর্যাপ্ত সাহায্য সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তোলার কাজ চলছে। উৎসাহী স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম যুবকদের একত্রিত করে নিরাপত্তা বাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে।’

পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বরেন, ‘মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে পোশাক ও অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। টহলে থাকবে র‌্যাব সদস্যরা। এছাড়া স্থানীয়ভাবে মণ্ডপ রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’

জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এ বছর জেলার প্রতিটি মণ্ডপে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। জলাবদ্ধ এলাকার মণ্ডপগুলোর প্রতি বিশেষ সুনজর দেওয়া হচ্ছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি থাকবে না।’