মেইন ম্যেনু

এবার প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমা মিশন

হাবীব রহমান : পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরো উষ্ণ হচ্ছে সরকারের। নভেম্বর মাস জুড়ে চার দফায় ইউরোপের তিনটি দেশ সফর করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। রাষ্ট্রীয় সফর ও কয়েকটি সেমিনারে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও মাল্টায় যাবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বিএনপিবিহীন দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সবার অংশগ্রহণে আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের কথা বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো। শাসক দলের অনেকে মনে করেন, এ কারণে তৈরি পোশাক রফতানিতে জিএসপি সুবিধাও বাতিল করে তারা। দশম সংসদ নির্বাচনের পর পর জাপান, চীন ও ভারত যেভাবে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসা শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে, তার ঠিক উল্টো অবস্থানে যায় পশ্চিমারা। অবশ্য পশ্চিমাদের বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ বিরোধিতার কথা মন্ত্রিসভার বৈঠকসহ শাসক দলের বিভিন্ন ফোরামের আলোচনায় বিভিন্ন সময়ে উঠে আসছে। এ অবস্থায় নভেম্বরে ইউরোপের কোনো দেশের আমন্ত্রণ ও প্রধানমন্ত্রীর ইউরোপ সফরের খবরে একটি বাড়তি তাৎপর্য যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। পশ্চিমা কয়েকটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা প্রতিবেদককে বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে তো পশ্চিমাদের সঙ্গে একটা তিক্ততা আছেই। ভদ্র লোকের তিক্ততা তো আর দা-কুড়াল নিয়ে হয় না। সম্পর্ক খারাপ তারপরও সবকিছু রুটিনওয়ার্ক হয়ে যাচ্ছে। আমার ধারণা সেখানে সবার সঙ্গে একটা হাই-হ্যালো হবে। এটা সরকারের জন্য অনেক স্বস্তিদায়ক হবে। জানা যায়, নভেম্বরের ৩ তারিখ নেদারল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এজন্য জেলহত্যা দিবসে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা এগিয়ে নভেম্বরের ২ তারিখ করা হয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময়েই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান রানী। পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি কিউলেনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সফরসূচি অনুযায়ী ৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেদারল্যান্ডস সফরে যাবেন। ফিরবেন ৫ নভেম্বর। সেখান থেকে ফিরে ১৬ নভেম্বর ফ্রান্সে যাওয়ার কথা রয়েছে। জানা যায়, ইউনেস্কোর ডিজি ইরিনা ভুখবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। ইউনেস্কোর এ কর্মকর্তার এ বছরই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেয়ার কথা। তার দাওয়াতে এ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দানকারী জাতিসংঘের এ সংস্থাটি বাংলা ভাষার গবেষণা নিয়ে কোনো স্থাপনার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন বলে জানা গেছে। অবশ্য এ সফরে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করার প্রচেষ্টা রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। এটি ঠিক করা হলে এ সফরটিও সরকারি হবে। এছাড়া ফ্রান্সে বঙ্গবন্ধুর একটি ম্যুরাল উদ্বোধনের কথাও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাজধানী প্যারিস থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে একটি শহরে এ ম্যুরালটি স্থাপিত হবে। ফ্রান্স আওয়ামী লীগও এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সব ঠিক থাকলে প্রথম দফায় ফ্রান্স থেকে ১৯ নভেম্বর দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। এর পর কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে ২৭ নভেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ মাল্টা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে ২৯ নভেম্বর দেশে ফিরে আবার ফ্রান্সে যাবেন তিনি। সেখানে জলবায়ু বিষয়ক একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। এ সম্মেলনে ৮০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। চীন ও ভারতের সরকার প্রধানও এখানে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ করে এ সফরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকরা যখন এদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন আদায়ে একটু সরব হয়ে উঠেছেন ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর এ সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর রাষ্ট্রীয় হলেও যেহেতু ইউনেস্কো, জলবায়ু ও কমনওয়েলথের এসব সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরাও সেখানে থাকবেন, তাই এ সফরে সাইড লাইনে পশ্চিমা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। তাই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা পশ্চিমা বিশ্বে প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে রাজনৈতিক অনেক বিষয়াদি আলোচনায় উঠে আসবে বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহল। আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্নভাবে একটি নির্বাচন আদায়ের চেষ্টা করে চলছে। বাংলাদেশে নিরাপত্তা ‘ইস্যুটিও’ এর একটি ধাপ বলে শাসক দলের শীর্ষ মহল মনে করে। দেশের রাজপথে বিএনপি তেমন একটা পেরে উঠতে না পারায় তারা এখন পশ্চিমামুখী। বিভিন্ন লবিস্ট নিয়োগ করে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সামনে রেখে এ চাপ দিতে চাচ্ছে পশ্চিমারা। সূত্র জানায়, একদিনের ঝটিকা সফরে ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরও এর অংশ ছিল। আওয়ামী লীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এই প্রতিবেদককে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমাদের একটা চাপ ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকেই ছিল। আমরা বারবার এটা ওভারলুক করে গেছি। নেদারল্যান্ডসের এ আমন্ত্রণে শীতল সম্পর্ক উষ্ণ হতে পারে।-মানবকণ্ঠ