মেইন ম্যেনু

এবার বিশ্বরেকর্ড করলো ঈগলপাখি

কতরকম বিশ্বরেকর্ডের কথা শুনেছেন? অনেকগুলোই হয়তো। তবে এটা একটু ব্যতিক্রমী বটে। দার্শানের বিশ্বরেকর্ড। দার্শান মানে একটা ঈগল পাখি। দুবাইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ দুবাই থেকে এই ঈগলপাখি উড়াল দিয়ে নিচে নেমেছে। আর এটা চাক্ষুস করেছে ৫২ লাখেরও বেশি মানুষ। আর এতেই হয়ে গেল বিশ্বরেকর্ড। এর এক নজরে দুবাই শহরটাও দেখে নিল সবাই।

হ্যাঁ, এভাবেই একটা বিশ্বরেকর্ড করেছে দার্শান। দার্শান মানে, সেই ঈগল, যাকে বিশ্বরেকর্ডের জন্য প্রস্তুত করেছে ফ্রান্স থেকে আসা প্রশিক্ষক। ঈগল বা যে কোনো পাখির ওড়া তো আমরা সাধারণত নিচ থেকেই দেখি। বিশ্বরেকর্ড গড়ার অভিযানে ঈগলের সঙ্গে থেকেই তার ওড়া দেখেছে, ঈগলের চোখে ২,৭০০ ফুট ওপর থেকে দুবাই শহরও দেখেছে কয়েক লাখ মানুষ।

বুর্জ দুবাইয়ের একেবারে ওপরে বসিয়ে দেয়া হয়েছিল দার্শান নামের ঈগলটিকে। ঈগলের ঘাড়ের ওপরে বাঁধা ছিল অত্যাধুনিক লাইভ স্ট্রিম ক্যামেরা। ফলে দার্শানের বিশ্বরেকর্ড গড়ার উড়াল এবং ২,৭০০ ফুটেরও বেশি ওপর থেকে তার দুবাই শহর দেখতে দেখতে নেমে আসার প্রতিটি মুহূর্তই উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছে মানুষ।

এভাবে বুর্জ খালিফা থেকে দূরের এক মাঠে দাঁড়ানো ফরাসি প্রশিক্ষকের কাছে নেমে এসে মানুষের তৈরি সবচেয়ে উঁচু কাঠামো থেকে ওড়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছে দার্শান। আগের রেকর্ডটি কার ছিল? তা বলা সম্ভব নয়, কেননা, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের ওপরে আর কোনোদিন কোনো পাখি বসেছে বা বসবে কিনা সেটাই তো জানা নেই কারো।

স্বাভাবিক অবস্থায় ২,৭০০ ফুটের চেয়ে অনেক ওপর দিয়ে উড়তে পারে নেড়ে মাথার এক ধরনের ঈগল। ১০ হাজার ফুট ওপর দিয়ে অনায়াসে উড়ে যেতে পারে তারা। এক ধরনের শকুনতো ৩৭ হাজার ফুট ওপর দিয়ে ওড়ে! তবে এই দুই ধরনের পাখিই এখন বিলুপ্তির পথে।

এমন বিলুপ্ত প্রায় পাখিদের রক্ষার জন্যই কাজ করে ফ্রিডম কনজারভেশন নামের একটি সংগঠন। মানুষের তৈরি সবচেয়ে উঁচু ভবন থেকে ওড়ার ব্যবস্থা করে দার্শান নামের ঈগলটিকে বিশ্বরেকর্ড গড়ার সুযোগটা তারাই দিয়েছিল।

এখন বিশ্বের সব দেশের মানুষই দেখছে দার্শানকে। দার্শানের চোখেই আকাশ থেকে দেখছে দুবাই শহর৷ বিশ্বরেকর্ড এবং দুবাই দেখতে গিয়ে ইউটিউবের এই ভিডিওটি গত ৮ মাসে এখন পর্যন্ত ৫২ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ বার দেখেছে পাখি এবং ভ্রমণপ্রেমী মানুষ।