মেইন ম্যেনু

এবার মীর কাসেম আলীর পালা

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়ের পর কেটে গেছে দুই মাস। এখনো বের হয়নি আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়। এ কারণে রিভিউর আনুষ্ঠানিকতাও শুরু হচ্ছে না।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর।

মীর কাসেম আলীর পূর্ণাঙ্গ রায় কবে নাগাদ প্রকাশ হতে পারে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, এটি আদালতের বিষয়। তারাই সেটা বলতে পারবে। তবে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করার সুযোগ পাবেন কাসেম আলী। এর আগে কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না।

মীর কাসেম আলীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তারা রিভিউর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক সংগঠন আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ছিলেন মীর কাসেম আলী। পরে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য হন। এই কর্মপরিষদ দলটির আর্থিক খাতের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডসহ কারাদণ্ডের রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন মীর কাসেম। রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলাটিকে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে গত ৮ মার্চ অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যার একাদশ অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এ ছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও চতুর্দশ অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মোট ৫৮ বছরের দণ্ড বহাল থাকে। তবে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ অভিযোগ থেকে খালাস পান মীর কাসেম।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়গুলোর মধ্যে মীর কাসেম আলীর আপিল নিষ্পত্তিটি সপ্তম। এর মধ্যে আপিলের পর রিভিউ নিষ্পত্তি শেষে আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার‌্যকর হয়েছে। মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের পর রিভিউ নিষ্পত্তি হলো বৃহস্পতিবার। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলে তার ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। সরকার ও বিরোধীপক্ষ উভয়ই এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেছে, যেটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।