মেইন ম্যেনু

এবার সেই ওসির বিরুদ্ধে মামলা করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

রাজশাহী পবা থানার সেই বিতর্কিত ওসি আলমগীরের বিরুদ্ধে এবার মামলা দায়ের করেছেন জেলার একজন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

বুধবার দুপুরে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের (নম্বর-৫) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি, রাজশাহীর সিনিয়র বিচারিক হাকিম মো. সানাউল্লাহ এই মামলা দায়ের করেন। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯০ (১) ক্ষমতাবলে তিনি এ মামলা করেছেন।

মামলায় প্রথমে আদেশ প্রাপ্তির এক ঘণ্টার মধ্যে গত ৩ ও ৪ জুলাই থানায় ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে দাখিল করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) অনুলিপি ও জিডির রেজিস্টারসহ স্বয়ং ওসি আলমগীর অথবা তার মনোনীত (উপপরিদর্শক পদমর্যদার নিম্নে নয় এমন) একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তা আদালতে দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দাখিল শেষে এক ঘণ্টার মধ্যে আবার তা সংশ্লিষ্ট থানা বরবার ফেরত পাঠাতে হবে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তবে বিকেলে দেওয়া পরবর্তী আদেশে আদালত আগামী ১২ জুলাই সংশ্লিষ্ট জিডি বহিসহ সার্কেল ও এসপি অফিসে প্রেরিত আওতাধীন সব নথি ও জিডি বহি আদালতে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

বাদী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সানাউল্লাহ মামলায় উল্লেখ করেন, বুধবার সকাল ৯টায় তিনি স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার সূত্র ধরে জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যসহ আদালতের বিচারিক কার্য ধারার জন্য অবমাননাকর বক্তব্য উল্লেখ করে পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন পবা থানায় একটি জিডি করেছেন।

এর প্রেক্ষিত বিবেচনায় আদালত মনে করেন যে, ‘ওসি আলমগীর হোসেন তার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের দায় থেকে মুক্তি লাভের জন্য এবং তার কৃত আইন বিধি পরিপন্থি কাজের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কছে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সম্পূর্ণরূপে অসৎ উদ্দেশ্য সূত্রে বর্ণিত মতে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের (আদালতের বিচারক) ও বিচারিক বৈধ কার্যধারার বিরুদ্ধে মনগড়া, ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা, এখতিয়ার ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং বেআইনিভাবে অবমাননাকর ও মিথ্যা বক্তব্য উল্লেখে জিডি করে থাকলে তা প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

উপরোক্ত আলোচনা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে ওই জিডিতে ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতের বিচারিক বৈধ কার্যধারা সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে কী না তা যাচাই করার নিমিত্তে ও গত ৩ ও ৪ জুলাই থানায় দাখিল করা জিডির অনুলিপিসহ ও রেজিস্টার পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা আবশ্যক। আগামী ১২ জুলাই আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।

প্রসঙ্গত, আদালতে দায়েরকৃত একটি বিচারিক মামলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পবা থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড না করার জন্য গত ৩ জুলাই ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল্লাহ পবা থানার ওসি আলমগীরকে স্বশরীরে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। সেই সঙ্গে অনুলিপি দেন ডিআইজি, এসপি ও এসএসপি সদস্য সার্কেলকে। ওসি গত ৫ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।

এদিকে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩ জুলাই ওসি আলমগীর হোসেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল্লার বিরুদ্ধে পবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরিতে আদালত ও বিচারক সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। ডায়েরি নং-১১৯, তাং-৩/৭/২০১৫।

অপরদিকে আদালতের সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে ওসি আলমগীর হোসেন সংশ্লিষ্ট আদালতে যান এবং বিচারকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিচারক তাকে কথা বলার সুযোগ দেননি।