মেইন ম্যেনু

এভারেস্ট কেড়ে নিলো হাতের নয় আঙ্গুল

এভারেস্ট পর্বত জয়ের স্বপ্নে বিভোর নবুকাজু ফিরে এসেছেন নিজ ভূখণ্ডে। এভারেস্টের মাথায় পা না রেখেই হঠাৎ করেই চলে আসতে হলো এই পর্বতারোহীকে। নিজ দেশ জাপানে ফিরে আসলেও তাকে ত্যাগ করতে হয়েছে দুই হাতের নয় আঙ্গুল। হাতের নয় আঙ্গুল হারিয়ে মাত্র এক আঙ্গুল নিয়ে এভারেস্ট জয় করা অন্তত নবুকাজুর পক্ষে এখন সম্ভব নয়।

নিজের ফেসবুক পেইজে সম্প্রতি নবুকাজু কুরিকি লেখেন, ‘আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু গভীর বরফের মধ্যে অল্প একটু রাস্তা হাটতেও অনেকটা সময় লেগে যায়। একটা সময় আমি বুঝতে পারলাম, যদি আমি সামনে এগিয়ে যাই তাহলে হয়তো আর ফিরে আসতে পারবো না।’ প্রায় ৮,৮৪৮ মিটার দূরত্বে পৌছানোর পর এই সিদ্ধান্ত নিতে হয় নবুকাজুকে। ৩৩ বছর বয়সী নবুকাজুই প্রথম ব্যক্তি যিনি নেপালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের পর এভারেস্টে চড়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।

গত ছয় বছরে তিনি মোট পাঁচবার চেষ্টা করেছেন এভারেস্ট জয়ের। তবে নবুকাজু ঘোষণা দিয়েছেন যে, এবারই ছিল তার শেষ যাত্রা। তার পক্ষে আর এভারেস্ট জয় করা সম্ভব হবে না। তাইতো নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘আপনার সকলের আন্তরিক সমর্থনের জন্য অনেক ধন্যবাদ।’

এডমুন্ড হিলারি এবং তেনজিং শেরপা যে পথ দিয়ে এভারেস্টে চড়েছিলেন ঠিক সেই পথটিই বেছে নিয়েছিলেন নবুকাজু। কিন্তু নেপালে ভূমিকম্প হবার পর এভারেস্ট চড়ার সবগুলো রাস্তাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে বর্তমানে এভারেস্টে চড়ার সবচেয়ে ভালো রাস্তাটি এখন চীন থেকে। তবে চীন থেকে পর্বতে আরোহন করা অনুমতি দেয়া হয় না বলে, বাধ্য হয়েই দুর্গম রাস্তা ধরতে হয় পর্বতারোহিদের।

নবুকাজু কুরিকি মূলত প্রতিবারই শীতকালীন সময়ে পর্বতে চড়েছেন। প্রতিবারই তিনি প্রচণ্ড শীতের কারণেই এভারেস্ট থেকে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। ২০১২ সালে বরফের এক গর্তে আটকা ছিলেন প্রায় দুই দিন। সেসময় মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ভেতর থাকার কারণে তিনি তার হাতের নয়টি আঙ্গুল হারান। কিন্তু তারপরেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান।