মেইন ম্যেনু

এমন এক ছবি কি দেখানো উচিত?

তুরস্কের উপকূলে এক শিশুর মৃতদেহের মর্মান্তিক ছবি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে৷ ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্ডার কুডাশেফ ছবিটি দেখানোর সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে একটি সংবাদভাষ্য লিখেছেন৷

সমুদ্রসৈকতে একটি শিশুর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে৷ এক বীভৎস দৃশ্য, যা গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে পলায়নের অসহায় ও মারাত্মক চিত্র তুলে ধরে৷ দিনের পর দিন সিরিয়ায় যা ঘটে চলেছে, এটা তারই একটি মুহূর্তের প্রতিফলন৷ এই ছবির মধ্যে সেই গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে৷ এই ছবি দেখলে আবেগ ধরে রাখা যায় না৷ এই ছবি দেখলে মনের মধ্যে কষ্ট ও সহানুভূতি আমাদের নীরব করে দেয়৷ এই ছবি আমাদের অসহায়তা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে৷ এই ছবি আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে, আমাদের হতবাক করে দেয়৷ এই ছবি দেখলে আমাদের সবার মনে হয় – শুধু এ বছর নয়, গোটা দশকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি এটি৷ গত কয়েক মাস ধরে যা কিছু আমাদের নাড়া দিচ্ছে, স্পর্শ করছে, ক্রোধ ও বিরক্তি জাগিয়ে তুলছে, এই ছবি সেই সব আবেগের অভিব্যক্তি৷

এটি সত্যি একটি বীভৎস ছবি৷ এমন এক ছবি কি দেখানো উচিত? আমরা, মানে ডয়চে ভেলের কি এই ছবি দেখানো উচিত? ছবিটি না দেখানোর অনেক যুক্তিগ্রাহ্য ও নৈতিক কারণ রয়েছে৷ এখানে মৃত শিশুটির মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে৷ সংবাদ মাধ্যম হিসেবে এ ক্ষেত্রে সংযম দেখানোর যথেষ্ট কারণ রয়েছে৷ আমরা ছবিটি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ খবরটিকে ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা, ওয়েবসাইটের ক্লিক বাড়ানোর জন্য বা টেলিভিশন অনুষ্ঠানের দর্শক টানতে নয়৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ সেটি আমাদের মন স্পর্শ করেছে৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ নিষ্পাপ এই শিশুর ছবি গোটা শরণার্থী ট্র্যাজেডিকে একটা প্রতীক দিচ্ছে৷ এই শিশুটির ভবিষ্যতের স্বার্থেই তার বাবা-মা জীবন বিপন্ন করে যাত্রা শুরু করেছিলেন৷ সেই যাত্রা সমুদ্রেই শেষ হয়ে গেছে৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ সেটি আমাদের সবাইকে ঝাঁকিয়ে দিয়েছে৷ সম্পাদনা বিভাগের মিটিং-এর সময় চিন্তায় ডুবে গিয়ে নীরব হয়ে পড়েছিলাম৷ কষ্ট ও মৃত্যু আমাদের মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে৷ আমরা ছবিটি দেখাচ্ছি, কারণ আমরাও সেই বেদনা অনুভব করছি৷ সাংবাদিকতায় ব্যস্ত দৈনন্দিন কাজের মাঝেও ছবিটি আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে৷