মেইন ম্যেনু

এমন পাখিও আছে যারা বছরে ওড়ে ৪০,০০০ মাইল!

ছোট ছোট পাখি, কিন্তু তাদের মধ্যে এমন পাখিও আছে, যারা বছরে ওড়ে ৪০,০০০ মাইল! পক্ষিজগতের এক লিন্ডবার্গ অ্যালাস্কা থেকে নিউজিল্যান্ড সাত হাজার মাইল পথ উড়ে গেছিল ন’দিনে, একবারও না থেমে, দানাপানি ছাড়াই৷

সুটি শিয়ারওয়াটার:

এই পাখিরা বসন্তে ডিম পাড়ে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে; গরমে যায় উত্তর মেরুর কাছে খাবারের খোঁজে; আবার হেমন্তে ফকল্যান্ড আইল্যান্ডে ফিরে আসে৷ বেশি নয়, এই ধরুন ৪০ হাজার মাইল, বা ৬৪ হাজার কিলোমিটারের একটা রাউন্ড ট্রিপ – জীবনে একবার নয়, প্রতি বছর৷

পায়েড হুইটইটার:

ছোট্ট এই পোকামাকড়খেকো পাখিটি ইউরোপের দক্ষিণপূর্ব প্রান্ত থেকে চীন অবধি যায়; শীত কাটায় ভারত আর উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায়৷ ব্রিডিং গ্রাউন্ড, মানে ডিম পাড়ার জায়গা থেকে উইন্টারিং গ্রাউন্ড, মানে শীত কাটানোর জায়গা, আবার সেখান থেকে ফেরৎ আসতে পায়েড হুইটইটারকে উড়তে হয় বছরে মোট ১১,০০০ মাইল বা ১৭,০০০ কিলোমিটার৷

পেক্টোরাল স্যান্ডপাইপার:

এই পাখিটি উত্তর-পূর্ব এশিয়া, বা অ্যালাস্কা, কিংবা মধ্য ক্যানাডার তুন্দ্রা অঞ্চলে ডিম পাড়ে, কিন্তু শীত কাটায় দক্ষিণ অ্যামেরিকায় – এশিয়ার পাখিগুলো নাকি অস্ট্রেলিয়া এমনকি নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত যায়৷ একটু ঘোরাঘুরি হয় বৈকি, এই ধরা যাক বছরে ১৮,০০০ মাইল বা ২৮,০০০ কিলোমিটার৷ তবে নিজের এয়ারলাইন্স থাকলে আর অসুবিধা কি!

শর্ট-টেইলড শিয়ারওয়াটার:

চাচেরা ভাই ‘সুটি-’র মতো অত ঘোরাঘুরিতে বিশ্বাস করে না এই শিয়ারওয়াটার পাখি৷ অস্ট্রেলিয়ায় (দক্ষিণ গোলার্ধের) শীতে ডিম পাড়ার পর, উত্তরে আলয়শিয়ান দ্বীপপুঞ্জ আর কামস্কাটকা অবধি যায়; নামে উত্তর অ্যামেরিকার পশ্চিম উপকূল বরাবর – তারপর সাগর পাড়ি দিয়ে আবার ফিরে যায় অস্ট্রেলিয়ায়৷ এভাবে প্রশান্ত মহাসাগর চক্কর দিয়ে আসতে উড়তে হয় ২৭,০০০ মাইল বা ৪৩,০০০ কিলোমিটার৷ তবে মাইলেজ জমা হয় বৈকি!

নর্দার্ন হুইটইয়ার:

এই ছোট্ট পাখিটির ওজন দু’চামচ লবণের বেশি নয়৷ অথচ পাখিটি খোলা সমুদ্র, বরফ ও মরুভূমি পেরিয়ে বছরে ন’হাজার মাইল যায় ও আসে – মোট ১৮,০০০ মাইল বা ২৮,০০০ কিলোমিটার৷ নর্দার্ন হুইটইয়ার পাখিরা বসন্ত কাটায় উত্তর ও মধ্য এশিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ, গ্রিনল্যান্ড, অ্যালাস্কা, এমনকি ক্যানাডায়৷ শীতে তারা ফেরে সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে আফ্রিকায়৷ গায়কপাখিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদূর যায় ও ফেরে এই নর্দার্ন হুইটইয়ার৷

আর্কটিক টার্ন:

এক কথায় ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন! বছরে গড়ে ৪৪,০০০ মাইল বা ৭০,০০০ কিলোমিটার ঘোরে – মানে ওড়ে! – এই আশ্চর্য পাখিটি৷ সুমেরুর কাছের গ্রিনল্যান্ড থেকে কুমেরুরওয়েডেল সি অবধি যায় এই আর্কটিক টার্ন, আবার ফেরে৷ কি করবে বেচারা: তার শোবার ঘর আর রান্নাঘরের মধ্যে দূরত্বটাই যে ওরকম৷ কোনো আর্কটিক চার্নকে জিগ্যেস করলে হয়তো বলবে, ‘ভাগ্যিস পৃথিবীটা আরো বড় ছিল না!’

বার-টেইলড গডউইট:

ননস্টপ ফ্লাইটের রেকর্ড এই পাখিটির৷ অ্যালাস্কা থেকে নিউজিল্যান্ড ৭,১৪৫ মাইল বা ১১,৪৬৬ কিলোমিটার ন’দিনে ফ্লাই করেছিল এই ‘লিন্ডবার্গ’ পাখি! দানা, পানি কিংবা রেস্ট নেওয়ার জন্য একবারও না থেমে৷ এটা যে কি করে সম্ভব, তা এখনও ভেবে বার করতে পারেননি গবেষকরা।-ডয়েচ ভেল