মেইন ম্যেনু

এমপিও নির্দেশিকা পরিবর্তনে মন্ত্রণালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

এমপিও নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনতে শনি ও রোববার দিনভর কাজ করেছে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ওই বৈঠকে শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত সচিব এ এস মাহমুদ, অশোক কুমার, হেলাল উদ্দিন ও ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন ছাড়া কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সার্বিক নির্দেশনায় তারা ছুটির দিনেও কাজ করেছেন। সাধারণ সময়ে তদবির আর ভিজিটরের যন্ত্রণায় কোনো জটিল ও গভীর বিষয়ে কাজ করা মুশকিল হয় তাই ঈদের ছুটির সময়টা বেছে নেয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা ওই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে চালু থাকা এমপিও নির্দেশিকায় বিরাট কয়েকটি পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে আরো বেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এমপিওভুক্ত করা যাবে এবং কাম্যসংখ্যক শিক্ষার্থী নেই এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। ঢালাও এমপিওর বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া শর্ত মাথায় রেখে কাজ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল, প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব, শিক্ষকদের যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয় মাথা রেখে কতপিয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে।

সূত্র জানান, এ সংশোধনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং প্রণীতব্য আইনের বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে।

বিদ্যমান এমপিওর নির্দেশিকায় প্রতিটি স্কুলে বর্তমানে যেসব শিক্ষক এমপিওভুক্ত রয়েছেন, তার অতিরিক্ত বেশ কিছু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিধান যুক্ত করা হবে। শিক্ষানীতি-২০১০-এর আলোকে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণীতে যেসব নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে সেসব বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের এমপিওভুক্ত করা হবে।

বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কম্পিউটার, চারু ও কারুকলা। এছাড়া যে বিষয়গুলোতে গুচ্ছ শিক্ষক বিদ্যমান, সেসব বিষয়েও প্রতিটির জন্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রটি। এ পদগুলোতে এমপিওর নির্দেশিকায় সংশোধনী হিসেবে যুক্ত হবে।

বর্তমানে গুচ্ছ শিক্ষকেরা স্কুলে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস নিয়ে থাকেন। এতে শ্রেণিকক্ষে গুণগত পাঠদান কতটুকু নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছেন কর্মকর্তারা। এমপিওর নির্দেশিকার সংশোধনীতে ওই প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা শিক্ষক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হবে। বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ের জন্য অবশ্যই আলাদা শিক্ষক নিয়োগের বিধান রাখা হবে।

বিষয়ভিত্তিক নতুন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদনের ব্যাপারে শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির প্রয়োজন হবে বলে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মান নিশ্চিত করতেই বিষয়ভিত্তিক এসব পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। এ পদগুলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে শিক্ষকের বয়সের একটি সীমারেখা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এমপিভুক্ত শিক্ষকদের বয়সের ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে এমপিওর নির্দেশিকার সংশোধনীতে সংযুক্ত করা হবে।