মেইন ম্যেনু

এমাজউদ্দীনকে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

সাম্প্রতি তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও হয়রানির অভিযোগ এনে এ ব্যাপারে ‘তথ্য ও উপাত্ত’ উপস্থাপনের জন্য সংবাদ সম্মেলন করতে এসে তা করতে পারেনি বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ।

রাজধানীর পান্থপথে সামারাই কনভেনশন সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘ঢাকা আদর্শ আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন। কিন্তু এ ব্যাপারে ‘অনুমতি নেওয়া হয়নি’- অভিযোগে পুলিশ সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেয়। অবশ্য আয়োজকরা বলেছেন তাদেরকে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো।

বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই আয়োজন স্থলের আশপাশে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে ‘ঢাকা আদর্শ আন্দোলন’-এর নেতারা সেখানে এলে তাদেরকে কনভেনশন সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। গেটে তালা ঝুলে থাকতে দেখা গেছে।

এ সময় সেখান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি শওকত মাহমুদকে আটক করে পুলিশ। এ সময় সেখানে এমাজউদ্দিন ছাড়াও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ব্যারিস্টার রুহিন ফারহানা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

কনভেনশন সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে তাৎক্ষণিকভাবে এমাজউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেওয়ায় দু:খ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দু:খের বিষয় সরকারের অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ কর্মকর্তা শান্তিপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখানে কোনো অভিযোগ করতে বা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে আসিনি। অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে পুলিশ মস্তবড় ভুল করেছে।’

এ ঘটনাকে ভদ্র লোকের কাজ নয় বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়ার এই পরামর্শক।

নিজেকে বিএনপির কোনো সদস্য নয় দাবি করে এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি বিএনপির কোনো লোক নই। এই দলের চাঁদাও দেই না। ঢাকা আদর্শ আন্দোলনের কারো বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাও নেই। আমরা চাই শান্তিপূর্র্ণভাবে নির্বাচন হোক। এর মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসবে।’

দেশে ‘গণতান্ত্রিক ধারা’ চালু করতে হলে সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

আক্ষেপ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই উপাচার্য বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক লোকের এভাবে এখানে এসে চলে যেতে হবে তা কখনো ভাবতে পারিনি। অনুষ্ঠান বন্ধ করতে চাইলে ফোন দিলেই আমি এখানে আসতাম না। আজ হোক কাল হোক দেশে নির্বাচন হবে।’

‘অনুমতি নেওয়া হয়নি’- এই অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দায়িত্বরত পুলিশ। তবে সংগঠনের নেতা মাহফুহউল্লাহ দাবি করেন, কলাবাগান থানায় অনুমতির ব্যাপারে আবেদন করা হয়েছিলো। লিখিত অনুমতি না দিলেও মৌখিক অনুমতি দিয়েছে।

এদিকে সোয়া ১২টার দিকে কনভেনশন সেন্টারের সামনে এসে ফিরে যান গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াকে দু:খজনক হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। একই সঙ্গে শওকত মাহমুদের মুক্তি দাবি করেন জাফরউল্লাহ চৌধুরী।