মেইন ম্যেনু

এরশাদ রওশন দ্বন্দ্বে বেকায়দায় অন্যরা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তার স্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের মধ্যে মতবিরোধ কোনোভাবেই মিটছে না। বরং দিন দিন তা বাড়ছে এবং প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে।

দুই নেতাকে ঘিরে দলে দুটি বলয় তৈরি হওয়ায় বেকাদায় রয়েছেন প্রায় সবাই। চেয়ারম্যানকে খুশি করে কিছু বললে রওশন অখুশি হন কি না আর অন্যদিকে রওশনকে খুশি করলে আবার বহিষ্কারের রোষানলে পড়েন কিনা এ ভয়ে প্রকাশ্যে উভয়ের মন রক্ষা করে চলছেন নেতারা। এ জন্য সম্প্রতি রওশনের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন প্রায় ৩০ এমপি। তাদের রওশন এরশাদ সংসদীয় বৈঠকসহ নানা বৈঠকে আহ্বান করলেও সক্রিয়ভাবে সাড়া দিচ্ছেন না তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য ও সংসদ সদস্য এ বিষয়ে বলেন, ‘স্যার ও ম্যাডামের মধ্যে এ দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরেই। ম্যাডামের নেতৃত্বে আমরা একপক্ষ চেয়েছিলাম নির্বাচনে যেতে অন্যদিকে স্যারের নেতৃত্বে আরেক পক্ষ চেয়েছিল নির্বাচন বর্জন করতে। কিন্তু পরে নির্বাচনে আমরা গিয়েছি এবং নির্বাচিতও হয়েছি সেটা স্যারও মেনে নিয়েছেন। এই নেতা বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী হলেও তাদের এখন নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব কাজ করছে’।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে এরশাদ ও রওশনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি অস্বীকার করে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার ও ম্যাডামের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব অতীতেও ছিল না, এখনও নেই’।

দুই নেতার মতবিরোধের কারণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড় বছরেও নির্বাচন করা যায়নি সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা। এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মনোনয়নসহ বেশ কিছু ঘটনায় দুজনের বিরোধ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে।

তবে সম্প্রতি এই বিরোধের প্রকাশ্য রূপ দেখা গেছে জাতীয় সংসদে। এরশাদ একটি বক্তব্য দেয়ার পর তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন রওশন এরশাদ। কদিন পর এরশাদ বলেন, তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশের এখতিয়ার রওশনের নেই।

গত ২৯ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের পয়েন্ট অব অর্ডারে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় বলি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, সংসদ উপনেতা নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী। কিন্তু এরা শোপিস। বাইরে কিন্তু এ অবস্থা নেই। বাইরে নারীরা অসহায়।’

কিন্তু এরশাদের এমন বক্তব্যের পর রওশন বলেন, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। হয়তো বক্তব্যের শব্দ চয়ন ঠিক ছিল না।

এরপর ৬ জুলাই তিনি সংসদে বলেন, আমার বক্তব্যের জন্য জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের দুঃখ প্রকাশ করার এখতিয়ার নেই।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে তেমন বিভক্তি লক্ষ্য করা না গেলেও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা এরশাদ ও রওশনের সমর্থনে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ নিয়েও দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা গেছে।

জানা গেছে, ৭ জুন রওশন এরশাদ তার পছন্দের ৫ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু বা মশিউর রহমান রাঙাকেও আমন্ত্রণ জানাননি। এ নিয়ে রওশনের প্রতি ক্ষুব্ধ এরশাদপন্থিরা।

রমজানের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের সেমিনারকক্ষে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভেজাল প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন রওশন এরশাদ। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না জাপার বেশিরভাগ সংসদ সদস্য। বাজেট অধিবেশনের আগে জাপার সংসদীয় দলের বৈঠকে ২৯ জন সংসদ সদস্যের অনুপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, এরশাদের বারণ থাকায় ওই বৈঠকে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া দলটির সংসদীয় কমিটির বৈঠকেও এরশাদপন্থিরা উপস্থিত থাকছেন না।