মেইন ম্যেনু

এরশাদ-রওশন দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে!

রাজশাহী থেকেই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এরশাদ ঘোষিত রাজশাহী জেলা কমিটি আছে। পাশাপাশি বিরোধী দলীয় নেতা রওশদ এরশাদ যোগ দিচ্ছেন অন্য কমিটি আয়োজিত মহাসমাবেশে। এ নিয়ে জেলা জাতীয় পার্টির মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টির (একাংশ) সভাপতি শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর সভাপতিত্বে বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। জাতীয় পার্টি রাজশাহী বিভাগের মোট ৮টি জেলার সমন্বয়ে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রীসহ জাতীয় পার্টির ২০ জন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য।

এ সমাবেশকে ঘিরে জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা চাঙা হয়ে উঠেছে। তবে শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর নেতৃত্বে মহাসমাবেশকে ঘিরে যেখানে জোর কার্যক্রম শুরু করেছে সেখানে এরশাদের দেয়া কমিটি নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে।

রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টির (একাংশ) সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার জুয়েল জানান, বিভাগীয় মহাসমাবেশটিকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলাসহ ৮ টি জেলাতে মাইকিং, পোস্টার, আনন্দ মিছিল, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানোর প্রস্তুতি চলছে। জাপা নেতা শাহাবুদ্দিন বাচ্চু ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি এসেই নেতাদের নিয়ে বসবেন ও মহাসমাবেশ সফল করতে দায়িত্ব বণ্টন করে দিবেন। সেই অনুযায়ী সবাই একযোগে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এ সমাবেশে এক লাখের বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

জেলা জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, গত সংসদ নির্বাচনে বেগম রওশনের নেতৃত্বে রাজশাহীর একটি মাত্র আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহাবুদ্দিন বাচ্চু রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) থেকে ভোটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য বেগম রওশন এরশাদের কাছ থেকে ডিও লেটার নেয়ায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু চক্রান্ত করে বাচ্চুকে কমিটি থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু তাই না, পার্টির চেয়ারম্যানকে এক ধরণের ধোঁকা দিয়ে নতুন একটি পকেট কমিটি করে দেন জেলাতে। এ ঘটনায় বাচ্চুর সমর্থকরা জিয়াউদ্দিন বাবলুকে রাজশাহীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণাও করেন। এরপরেই এরশাদের স্নেহের শীতল পরশ থেকে দূরে সরে যান শাহাবুদ্দিন বাচ্চু। বিপরীতে রওশনের আশির্বাদী হাত বাচ্চুর মাথায় পড়ে।

জাপার নেতারা জানান, দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকার পরে রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টি মূলত চাঙা হয়ে উঠে শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর হাত ধরে। ২০১৪ সনের ২১জুন রাজশাহী জেলা জাতীয় পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রবীণ নেতা হাফিজকে সভাপতি ও শাহাবুদ্দিন বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে, সম্মেলনের মেয়াদ থাকার পরেও সম্প্রতি পার্টির প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন বাচ্চুকে বাদ দিয়ে জেলা জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করেন। এ কারণে জেলার রাজনীতিতে কয়েক মাস ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছিলো।

এদিকে, এরশাদের দেয়া কমিটির বিপরীতে পাল্টা কমিটি দাঁড় করেন শাহাবুদ্দিন বাচ্চু। তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করেন তিনি। তারই ডাকা মহাসমাবেশে যোগ দিচ্ছেন বেগম রওশন এরশাদ।