মেইন ম্যেনু

এলপিজির ভর্তুকিতে গ্যাস বিক্রির টাকায় তহবিল, বছরে জমবে ২৬০০ কোটি টাকা

জ্বালানি খাতের জন্য আরেকটি নতুন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গ্যাসের সম্পদ মূল্য থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ নিয়ে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল-ইএসএফ’ নামের ফান্ডটি গঠিত হবে। এতে বছরে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা জমবে। আমদানিকৃত তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) তরলকৃত ও পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) জন্য ভর্তুকি যোগাতে এ অর্থ কাজে লাগানো হবে।

এর আগে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল নামের একটি ফান্ড গঠন করেছিল কমিশন। তবে এখন তহবিলের নাম সংশোধন করে গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ উন্নয়ন তহবিল করা হচ্ছে।

চলতি বছর সম্পদ হিসেবে প্রতি হাজার ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। পূর্বে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্যাসের সম্পদ মূল্য শূন্য ধরা হতো। এই সম্পদ মূল্য ধরে গত ২৭ আগস্ট গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় বিইআরসি, যা সেপ্টেম্বর মাস থেকে কার্যকর হয়। এ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ আদেশ ৪ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। সেখানে ইএসএফ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের সম্পদ মূল্য থেকে এক টাকা এক পয়সা নিরাপত্তা তহবিলে জমা হবে। বিইআরসি আশা করছে, এতে বছরে ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা জমা হবে।

আদেশে বলা হয়েছে, ব্যবহার বিধিমালা ঘোষিত না হওয়া পর‌্যন্ত গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাস বিক্রি হতে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে ইএসএফ এর এর জন্য বরাদ্দ অংশটুকু একটি পৃথক ব্যাংক হিসেবে জমা রাখবে। আর প্রতি মাসের হিসেব বিইআরাসি ও পেট্রোবাংলাকে অবহিত করবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য থেকে এলপিজির ওপর ভর্তুকি দেয়ার দাবি ওঠে। তখন বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ছিল ‘পাইপ লাইনের গ্যসের ব্যবহার দেশের কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ। তাই যেসব এলাকায় পাইপ লাইনের গ্যাস যাবে না সেসব এলাকায় এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে ভর্তুকি দেওয়া প্রয়োজন। কারণ মূল্য বাড়ানোর পরও পাইপ লাইনের গ্যাস ব্যবহারকারী একজন আবসিক গ্রাহকের মাসিক জ্বালানি ব্যয় সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকা। সেখানে এলাপিজি ব্যবহারকারী একজন আবাসিক গ্রাহকের মাসিক এই ব্যয় কমপক্ষে আড়াই হাজার টাকা।’
কমিশিনও বিষয়টি ভেবে দেখবে বলে তথন জানিয়েছিল।

এছাড়া সরকার গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করছে। ২০১৭ সালের মধ্যে দেশে এলএনজি আসতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। এলএনজির দাম আমাদের ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হবে।

তখন গ্যাসের দাম সে সময় কেমন হবে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত মাসের ২৭ তারিখ এনার্জি কমিশনের সদস্য রহমান মোর্শেদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয়। কমিটি আমদানিকৃত এলএনজির সঙ্গে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন খরচের সমন্বয় করে একটি মূল্য কাঠামো দাঁড় করবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে গ্যাসের দাম ১১ দশমিক ২২ শতাংশ বাড়ানোর সময় বিইআরসির পক্ষ থেকে ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিল-জিডিএফ’ গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। বলা হয়, গ্যাসে যে দাম বাড়ানো হচ্ছে; সেই বাড়তি টাকার পুরো অংশ জিডিএফ এ জমা হবে। প্রথমে অনুদান দেয়ার কথা থাকলে পরে এ তহবিলের অর্থ বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানিকে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়।

এ ফান্ডের অর্থ ব্যবহারের নীতিমালায় বলা হয়েছে, গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে বিনিয়োগ করা অর্থ যে প্রকল্পে খরচ করা হবে তা লাভজনক বা বাণিজ্যিকভাবে সফল বিবেচিত হলে তা দুই শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ ফেরত দিতে হবে। প্রথম তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড ধরে প্রকল্প শুরুর পর দশ বছরের মধ্যে ১৪ কিস্তিতে (৪র্থ থেকে ১০ম বছরের মধ্যে) শোধ করতে হবে। তবে গ্যাস অনুসন্ধান কাজে খরচ করার পর উত্তোলনযোগ্য গ্যাস না পাওয়া গেলে এ অর্থ আর ফেরত দেয়া লাগবে না। তহবিলের অর্থ গ্যাসের অনুসন্ধান কাজে এবং উৎপাদন বাড়াতে খরচ করতে হবে।

এখন এ তহবিলে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মতো জমা হয়েছে। এ ফান্ডের অর্থে জ্বালানি খাতের ২০টিরও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে ৷

এদিকে জ্বালানি বিভাগ গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের নাম সংশোধন করে গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ উন্নয়ন তহবিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। অর্থাৎ গ্যাসের টাকায় কয়লা তেলসহ জ্বালানির অন্য বিষয়েও যেনো ব্যয় করা যায় সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যয়ের খাত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুসারে শুধু গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জিডিএফের টাকা খরচ করার নিয়ম। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন খসড়া অনুযায়ী এ তহবিলের অর্থে গ্যাস পাইপ লাইন, গাড়ি ভাড়া এমনকি প্রশিক্ষণও দেয়া যাবে ৷

বর্তমানে দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ১০০ কোটি ঘনমিটার। পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে ৭৭ কোটি ঘনমিটারের কিছু বেশি।