মেইন ম্যেনু

“এ টাকা ইনকামে কোন কষ্ট নাই, শুধু রোগী জোগাড় করলেই টাকা!”

বেশ কিছু টাকা পেয়েছি আজ…!

পেয়েছি বলতে আয় করেছি…! বেশ কিছু না বলে অবশ্য অল্প কিছু বলা ভাল…তবে টাকা দাতা আশ্বাস দিয়েছেন… যদি চেষ্টা করি…তবে, পরবর্তীতে আরো বেশি টাকা পাওয়া যাবে!

টাকাটা কিভাবে আয় করলাম?

খুব সহজ…আমার প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগী একটি ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করেছিল…প্রেসক্রিপশনে যেহেতু আমার নাম লেখা ছিল…তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীরা যে টাকা দিয়েছেন তাঁর একটি অংশ প্রেরণকর্তা হিসেবে আমার নামেও লেখা হয়েছে!

এক কথায় এটা কমিশনের টাকা…দুষ্ট লোকদের ভাষায় ‘উপ্রি’ ইনকাম! এ টাকা ইনকামে কোন কষ্ট নাই! শুধু রোগী পাঠাতে পারলেই হল!

অর্থকষ্ট তো সবারই থাকে…যে যত বড়লোক অর্থাভাব তার ততোবেশি…তবে, অতো গ্রামার আমি বুঝি না…আমারও যে অর্থের প্রয়োজন…খুব বেশি না…তবে অনেক বেশি…!

আমারও যে অনেক ইচ্ছে আছে…ইচ্ছা আছে নিজের পরিধেয় বস্ত্রটা আরেকটু সুন্দর করার…নিজ গৃহটা আরেকটু বাসযোগ্য করার…আপনজনের চাওয়াগুলো পূরণ করার…এই পৃথিবীটা সুন্দর করে ঘুরে দেখবার…সন্তানদের জন্য সুন্দর একটা পৃথিবী রেখে যাবার!

কিন্তু…অতৃপ্ত ইচ্ছাগুলো অর্থাভাবে যে এতিমের মত পিছে পিছে ঘুরে বেড়ায়…প্রতিদিন…প্রতিনিয়ত!
হটাৎ পাওয়া এ টাকা তাই এতো আকাঙ্ক্ষিত…এতো আরাধ্য!…বাসর রাতে ওড়নার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নববধূর চাঁদমুখের মতই আকর্ষণীয়!

কিন্তু…কখনো কি ভেবেছেন…এ টাকায় যে মিশে আছে রহিমা বিবির চোখের জল…করিম বক্সের হাড়ভাঙা খাটুনির ঘামের আঁচড়…মাস শেষে রিটায়ার্ডমেন্টের ক’টি টাকা হাতে পাওয়া রহমান আলীর দীর্ঘশ্বাস…মিশে আছে, অনেক রাতকে নির্ঘুম জাগিয়ে রাখা এই অধম ভাসকুলার সার্জন ডাঃ সাকলায়েনের অর্জিত অর্থের একটা অংশ…কারণ, আমার মাকেও যে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে ঐ ক্লিনিক থেকেই পরীক্ষা করাতে হয়েছে!

তাই…এ টাকা আমি রাখতে পারছি না…নিতে পারছি না…দান করে দিব…পূণ্যের আশা না করেই দান করব…আর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব…এর বিনিময়ে যেন তাঁরা আমাকে রোগীদের ডিসকাউন্ট দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

সত্যি বলছি…কমিশনের কথা চিন্তা করে সেখানে রোগী পাঠাইনি…আমার সব রোগীরাই স্বাধীন…তারা চাইলে যেকোন জায়গা থেকে পরীক্ষা করাতে পারে… ক্ষেত্র বিশেষে আমি গাইড লাইন দেই…অমুক জায়গায় গেলে বিরিয়ানীর স্বাদ পাবেন…তমুক জায়গায় গেলে পোলাও এর স্বাদ…অমুক জায়গায় পান্তার স্বাদ…যার যা সামর্থ সে তাই খাবে…!

কিন্তু এ কমিশনের টাকা গ্রহণ নাকি অনেকটা বাধ্যতামূলক…আপনি গ্রহণ না করলে আপনার নামে উত্তোলন করে আরেকজনের পকেটে চলে যেতে পারে…কি সুন্দর নিয়ম…! ভদ্র সমাজে এ্যাটাসড বাথরুমের মতই…পরিপাটি ঘরটার সাথেই থাকে পরিত্যক্ত মলের সহাবস্থান!

আচ্ছা, আমি কি ভাল মানুষ?

না মনে হয়…কারণ, আমার এক বন্ধু প্রায় গর্ব করে বলে…দেখ, আমি কিন্তু ঘুষ খাই না…উত্তরে বললাম, এ জন্য গর্ব করে কি লাভ…তোর অফিসে তো ঘুষ খাওয়ার সুযোগই নাই! যদি এমন হত যে ঘুষ খাওয়ার সুযোগ আছে…তুই খাস না তবে খুশী হতাম…বাহবা দিতাম!

আমিও তাই নিজেকে ভাল ভাবতে পারছি না…কারণ, প্রাপ্ত এ কমিশনের টাকা খুবই সামান্য…যদি টাকা খুব বেশি হয়? যদি অনেক বেশি হয়?

আমি কি তখন পারব আমাকে ধরে রাখতে…আমার আমিকে কন্ট্রোল করতে!

অবৈধ অর্থের গন্ধে কেউ খুশী হয়…কেউ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে!
আমি অনভিজ্ঞ…তাই না হয় আপাতত দ্বিতীয় দলেই থাকি! আমি জানি আমার দলটাই ভারী!

তুমিও কি আসবে আমার দলে?

Saklayen Russel এর ফেইসবুক থেকে সংগ্রহিত