মেইন ম্যেনু

ঐতিহ্যবাহী বুড়ো আঙ্গুলের লড়াই

খুলে ফেলুন পায়ের জুতো মোজা। এরপর কি করবেন ভাবছেন! অত ভাবার দরকার নেই, কারণ আপনার মতো আরও অনেকেই আছেন যারা ইতোমধ্যেই জুতো মোজা খুলে রেখেছেন আপনার পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের সঙ্গে লড়াই করবে বলে। তবে ভাববেন না, তারা আপনার গোটা শরীর নিয়ে আপনার বুড়ো আঙ্গুলের সঙ্গে লড়াই করবেন না। তারাও তাদের বুড়ো আঙ্গুল নিয়েই লড়াইয়ে নামছেন আপনার সঙ্গে। এখন শুধু অপেক্ষার পালা কে জেতে আর কে হারে।

১৯৭৫ সালের দিককার কথা। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল পার্ক জেলার প্রসিদ্ধ এক ক্যাফে হাউজ রয়্যাল ওক ইন। সেই ক্যাফের একদল লোক মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, ব্রিটিশদের জন্য এমন একটা নতুন খেলা আবিষ্কার করতে হবে, যাতে ব্রিটিশরা সত্যিই ভালো ফলাফল করে। যেমন ভাবনা তেমনই তাদের কাজের ধরন। অনেক চিন্তা ভাবনার পর তারা আবিষ্কার করলেন এই অভিনব প্রতিযোগিতার। এই প্রতিযোগিতায় দুই জন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট বোর্ডের উপর তাদের ডান অথবা বা পা রাখেন। এবং একজন রেফারির তত্ত্বাবধানে তারা বুড়ো আঙ্গুল নিয়ে লড়াইয়ে নামেন, অনেকটা পাঞ্জা লড়াইয়ের মতো ব্যাপার। যদিও ব্রিটিশরাও এই খেলায় নিজেদের ঐশ্বর্য্য ধরে রাখতে পারেনি। কানাডার এক পর্যটক এই খেলা নিয়ে ব্রিটিশদের সকল গর্ব ইতোমধ্যেই গুড়িয়ে দিয়েছেন পরপর কয়েকবার চ্যাম্পিয়ান হয়ে।

তবে আজকের বুড়ো আঙ্গুলের লড়াই যে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ছড়িয়ে গেছে, তা কিন্তু শুরুর দিকে ছিল না। শুরুর দিকে ব্রিটিশদের নিজেদের মধ্যেই এই খেলাটির প্রচলন ছিল। কিন্তু রয়্যাল ইনের নতুন মালিক জর্জ ব্রাগস এই খেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যান। তিনি তার ক্যাফে থেকে বিশ্বব্যাপী এই খেলায় আগ্রহীদের দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তার এই দাওয়াতে আশ্চর্যজনকভাবে অনেকেই সাড়া দেন এবং গাট্টিবোচকা নিয়ে চলে আসেন লন্ডনে। এরপরের ইতিহাসতো পত্রিকা আর ম্যাগাজিনের পাতায় পাতায়।

এই খেলাটি মোট তিনটি ধাপে হয়। এই তিন রাউন্ডের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক বার যে জিতবে তাকেই জয়ী বলে গণ্য করা হয়। বুড়ো আঙ্গুল লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক সংখ্যক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন অ্যালন ‘ন্যাস্টি’ ন্যাশ নামের এক ব্যক্তি। তার ১৮ বছরের লড়াই জীবনে নয়বার আঙ্গুল ভেঙ্গেছেন। কিন্তু এই আহত হওয়ার ঘটনাগুলো কখনই পিছিয়ে রাখতে পারেনি ন্যাশকে। প্রতিবারই নতুন উদ্যোগে তিনি ঝাপিয়ে পরেছেন লড়াইয়ে।