মেইন ম্যেনু

ওবামার অনুপ্রেরণা ছিল মোহাম্মদ আলী

ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশগ্রহন না করার কারনে তাকে বক্সিং রিং থেকে নিষিদ্ধ করে আমেরিকা সরকার।মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ১৯৭১ সালে নিষেধাজ্ঞা যখন উঠল ২৯ বছর বয়স হয়ে গেছে মোহাম্মদ আলীর। চার বছর রিং-এর বাইরে। ইতিমধ্যেই বক্সিং সার্কিটে এসে গেছেন তরুণ প্রজন্মের বক্সাররা। বয়স কম, কিন্তু ক্ষিপ্রতা বেশি। কিন্তু এ সব তোয়াক্কা করেননি আলী। তিনি যে মোহাম্মদ আলী। আর কেউ তখনও জানুক না জানুক, তিনি তো জানেন, কী করতে হবে তাঁকে! আবার শুরু হল লড়াই। একের পর এক প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করছেন। এর মধ্যেই জো ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে সেই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, যে ম্যাচ বক্সিং-এর ইতিহাসে কিংবদন্তী হয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত মুখোমুখি হলেন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন জর্জ ফোরম্যানের। ৩০ অক্টোবর ১৯৭৪ খেতাব পুনরুদ্ধার করলেন আলী।৩২ বছর বয়সে ২৫ বছর বয়সী ফোরম্যানকে হারিয়ে রীতিমতো ইতিহাস গড়ে ফেললেন আলী।

১৯৮১ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত পেশাদার রিং-এ নেমেছেন ৬১ বার। ৫৬ বার জিতেছেন।এমন বিরল রেকর্ড অার কারও নেই। আর জীবনের লড়াইয়ে? সম্মানের লড়াইয়ে? সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রপতিকে দেখে নিশ্চয় তাঁর মনে পড়েছিল সেই সব পুরোন দিনের কথা। আর বারাক ওবামা রাষ্ট্রপতি হয়েই স্মরণ করেছিলেন মোহাম্মদ আলীকে। ওবামার জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা যে তিনি। কেন তিনি বহু বহু মানুষের অনুপ্রেরণা? ওই যে হারিয়ে যেতে যেতে আবার ফিরে আসা, বাধা সরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ, বুক ভরা সাহস, তীক্ষ্ণ আত্মসম্মানবোধ আর মানুষকে ভালবাসা- এই সব দিয়েই তো একটা মোহাম্মদ আলী তৈরি হয়। ৭৪ বছর বয়সে এই মানুষটাই সারা পৃথিবীকে গোটা দুনিয়াকে কাদিয়ে চলে গেলেন স্রষ্টার ডাকে।এই মৃত্যু শুধু ক্রীড়াজগতে নয়, মানুষের সার্বিক ইতিহাসেই পাথরের মতো ভারী!