মেইন ম্যেনু

ওবামার সঙ্গে কো-চেয়ার হাসিনা

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে ‘শান্তিরক্ষা’ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কো-চেয়ার থাকবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ তথ্য জানান।

জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারণের সম্মেলনেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন তিনি। ৬০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন শেখ হাসিনা।

নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালে পরিবেশ বিষয়ক জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অফ দি আর্থ’ এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) পদক গ্রহণ করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে ‘খুব ব্যস্ত’ সময় কাটাবেন।

২০১৫ সালের শেষে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) মেয়াদ শেষ হতে চলায় পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর একটি সম্মেলনে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) চূড়ান্ত করবেন বিশ্ব নেতারা। ওই সম্মেলনের শেষ দিন বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

সম্মেলনের অংশ হিসেবে ২৬ সেপ্টেম্বর একটি সংলাপে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কো-চেয়ার থাকবেন শেখ হাসিনা।

৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার, দারিদ্র্য দূরীকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সফলতার উপর আলোকপাত করবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী পাঠায় বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত সফরে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম তদারিকর দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব তারা গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ২৮ সেপ্টেম্বর উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করবেন, যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কো-চেয়ার থাকবেন।

জাতিসংঘের মহাসচিবও ওই সম্মেলনের কো-চেয়ার থাকবেন।

বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কিছু প্রতিশ্রুতি দেবেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।

এছাড়া চীনের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ২৭ সেপ্টেম্বর লৈঙ্গিক সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের এক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আইএসআইএল ও সহিংসতা উগ্রপন্থা দমন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজনে অনুষ্ঠেয় আরেকটি সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা।

২৯ সেপ্টেম্বর ‘এমডিজি থেকে এসডিজিতে যাওয়া: বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের আয়োজনে ওই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ২৫ সেপ্টেম্বর ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক একটি ফোরামে বক্তব্য দেবেন তিনি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের জন্যও তারা চেষ্টা করছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

২০০০ সালে এমডিজি গ্রহণের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা।

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সার্ক, ওআইসি, ন্যাম, জি-৭৭ এর মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকসহ বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।