মেইন ম্যেনু

ওমে’র ছবির দ্বিগুণ ব্যবসা করে শুভ’র ছবি

যৌথ প্রযোজনার ছবি মানেই কমপক্ষে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ। এরচেয়ে বেশি বাজেটেও ছবি তৈরি হচ্ছে। দর্শকপ্রিয়তা না পাওয়ায় বিশাল বাজেটের ওসব ছবির পাশে লেগে যাচ্ছে ফ্লপের তকমা। বিদেশি লোকেশন, বিদেশি তারকা, নামী পরিচালক, দুই বাংলা মিলিয়ে ব্যাপক প্রচারণা- এতো কিছুর নীটফল দাঁড়াচ্ছে শূন্য।

অথচ দেশি বিনিয়োগের ছবি অতি অল্প বাজেটে নির্মাণের পরও দর্শক টানছে। থাইল্যান্ডের মনোরম লোকেশন থাকছে না। বিপুল অংকের পারিশ্রমিকের শিল্পীর পারফর্মেন্স থাকছে না। নামী মিউজিশিয়ানের গানও থাকছে না। তারপরও তুলনামূলকভাবে দেশিয় ছবির পাল্লাই ভারি।

কলকাতার চিত্রনায়ক ওম- যাকে ঢাকঢোল পিটিয়ে বাংলাদেশের সিনেমার বাজার জয়ের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছিল। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল তার মাথার উপর। সেই ওম দায়িত্ব নিয়ে দু দুটো ছবির সলিল সমাধি ঘটিয়েছেন! বক্স অফিসে রেকর্ড ভাঙার স্বপ্ন দেখিয়ে পর্বতের মূষিক প্রসব করেছেন তিনি। এখন তিনি ‘অঙ্গার’ ও ‘হিরো ৪২০’ এই দুটো ফ্লপ ছবির গর্বিত নায়ক!

ওমের মতো প্রচারণা ও বাজেট না পেয়েও তাকে ছাড়িয়ে গেছেন আরিফিন শুভ। দেশিয় বিনিয়োগের ছবি ‘মুসাফির’ নিয়ে ওমের দুই ছবিকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন শুভ। প্রথম দিনের আয়ে ‘অঙ্গার’ ও ‘হিরো ৪২০’ দুটোকেই হারিয়ে দিয়েছেন এই উদীয়মান নায়কক।

রাজধানীর চারটি অভিজাত সিনেমা হলের তিন ছবির প্রথম দিনের আয় বিশ্লেষণ করে আমরা দেখবো কীভাবে ওমের ছবির চেয়ে এগিয়ে আছে শুভর ছবি।

বলাকা সিনেমা হলে ‘অঙ্গার’ আয় করেছে ৪৭ হাজার টাকা। ‘হিরো ৪২০’ অায় করেছে ৫৪ হাজার টাকা। এই হলে ‘মুসাফির’ আয় করেছে ৮১ হাজার টাকা।

শ্যামলী সিনেমা হলে ‘অঙ্গার’ আয় করেছে ২১ হাজার টাকা। ‘হিরো ৪২০’ আয় করেছে ১৮ হাজার টাকা। এই হলে ‘মুসাফির’ আয় করেছে ৪১ হাজার টাকা।

মধুমিতা সিনেমা হলে ‘অঙ্গার’ আয় করেছে ৬৩ হাজার টাকা। ‘হিরো ৪২০’ আয় করেছে ৭০ হাজার টাকা। এই হলে ‘মুসাফির’ আয় করেছে ৮২ হাজার টাকা।

অভিসার সিনেমা হলে ‘অঙ্গার’ অায় করেছে ৫০ হাজার টাকা। ‘হিরো ৪২০’ আয় করেছে ৪৯ হাজার টাকা। এই হলে ‘মুসাফির’ আয় করেছে ৫৪ হাজার টাকা।

অধিকাংশ সিনেমা হলেরই চিত্র এমন। কোটি টাকার ভারতীয় নায়ককে কয়েক গোলে গো-হারা হারানোয় আরিফিন শুভ নির্মাতাদের কাছ থেকে অারো বেশি আস্থা কুড়াচ্ছেন। ইতিমধ্যে যৌথ প্রযোজনার সব ছবি থেকে ওম বাদ পড়েছেন। সেখানে ঢুকছেন শাকিব, শুভ’র মতো দেশিয় নায়করা। দেরিতে হলেও যৌথ বিনিয়োগকারীদের মাথা খুলছে। এতেই আপাতত স্বস্তি চলচ্চিত্র মহলে।