মেইন ম্যেনু

ওষুধ কোম্পানির ‘মিথ্যা তথ্যে’ প্রাণ হারাচ্ছে লাখো মানুষ

ওষুধের কার্যকারিতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেদের ওষুধ নিয়ে চিকিৎসকদের যেসব তথ্য দিয়ে থাকেন তা অনেক সময় ‘মিথ্যা’ এবং তথ্যে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, সঠিক তথ্য না থাকায় প্রতিবছর বিশ্বের কয়েক লাখ মানুষ ওষুধ সেবন করে প্রাণ হারাচ্ছে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা বিষয়ে ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’ ওই অনুসন্ধানটি চালায়। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সাবেক ব্যক্তিগত চিকিৎসক স্যার রিচার্ড থম্পসনসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় ছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অসীম মালহোত্রা জানান, ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের ওষুধ নিয়ে চিকিৎসকদের যেসব তথ্য দেন তাতে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। আবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও দেয়া হচ্ছে মিথ্যা তথ্য। এর ফলে চিকিৎসকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

মালহোত্রা বলেন, এতে করে চিকিৎসায় আশানুরূপ সুফলও পাচ্ছেন না ওষুধ সেবনকারীরা। ইচ্ছাকৃতভাবে দেয়া এ ধরনের ‘অস্বচ্ছ’ তথ্য প্রতিনিয়ত রোগীদের ‘মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি’ বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ওষুধ শিল্প সমিতির একজন মুখপাত্র বলেন, সব ওষুধের মান ও নিরাপত্তা যুক্তরাজ্যের ‘ওষুধ এবং স্বাস্থ্যপরিসেবা পণ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা’সহ (এমএইচআরএ) বিশ্বের অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা পরীক্ষিত। তিনি বলেন, তথ্যটি বিবেচনার বিষয়। এই ধরনের অনুসন্ধান ওষুধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এছাড়া দায়বদ্ধতাও তৈরি হবে।

তবে তিনি জানান, রোগীর মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকির তৃতীয় প্রধান কারণটি হলো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র। কারণ এটি নিয়ে কোনো গবেষণা হয় না। তিনি বলেন, বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যায়। এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা‘র (ডাব্লি‌উএইচও) কাছেও যেমন কোন তথ্য নেই, তেমনি যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর কাছেও তেমন কোন তথ্য নেই। বিষয়টি অনুসন্ধানের দাবি রাখে।