মেইন ম্যেনু

‘ওসি-ডিসিকে ফোন দিলেও লাভ হবে না’

ওসি, ডিসিকে ফোন দিলেও লাভ হবে না। এটা আমার দায়িত্ব। আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি। তাদেরকে ফোন দিলে আমার আরও ভাল হবে, তাদের সাথে পরিচয় হবে, সম্পর্ক তৈরি হবে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কথাগুলো কানে আসছিল। একজন পুলিশ সার্জেন্ট ওই মোড়ে রিক্সায় থাকা ২জন ব্যক্তিকে কথাগুলো বলছিলেন। কথাগুলো শুনে এগিয়ে গেলাম ঘটনাস্থলে।

কি হয়েছে?-ওই ট্রাফিক পুলিশকে আমি এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, সামনে সুপ্রিম কোর্ট, এটা ভিআইপি রোড। তাই এই রাস্তা দিয়ে রিক্সা চলা নিষেধ। আমি ওনাদেরকে এই কথা বললে তারা আমার কথা শুনতেছেনা। উনারা আমাকে ওসি, ডিসির ভয় দেখাচ্ছে।

এরপর রিক্সায় থাকা ২জনের মধ্যে একজনকে নাম জিজ্ঞেস করলে তারা ক্ষেপে উঠেন। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর শান্ত হন তারা। এরপর ট্রাফিক পুলিশের সাথে এমন ব্যবহারের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে একজন আমাকে বলেন, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করি। আমার মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছিলাম এই রাস্তা দিয়ে। একটু আগে ২টা রিকশা ছেড়ে দিয়েছে এই ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু আমাদেরকে ছাড়ছে না।

ওইসময় ওই ট্রাফিক পুলিশ আমাকে বলেন, আগের ২টা রিক্সার মধ্যে একটা রিক্সায় ১জন রোগী ছিল, আরেকটা যাচ্ছে মাল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে। তাই ছেড়ে দিয়েছি। জরুরী কিছু হলে আমাদের স্যার আমাকে বলেছেন ছেড়ে দিতে।

তিনি বলেন, অনেক ছাত্রকে আমরা ছেড়ে দেই। জরুরি কিছু হলেও আমরা ছেড়ে দেই। কিন্তু উনারা আমাকে ওসি, ডিসির ভয় দেখাচ্ছে। ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমি ভয় পাইনা।

শেষ পর্যায়ে রিক্সায় থাকা ওই ২জন একটু নত হয়ে যায়। এরপর ওই ট্রাফিক পুলিশকে বললাম, উনি ওনার মেয়েকে আনতে যাবে। তাই না ছাড়লে দেরি হয়ে যাবে। তখন আমার অনুরোধের ভিত্তিতে ট্রাফিক পুলিশ ওই রিক্সাটিকে ছেড়ে দেয়।