মেইন ম্যেনু

ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিএনপি নেতা পেলেন নৌকা প্রতীক

যশোরের অভয়নগরে প্রেমবাগ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা মফিজ উদ্দিন। আর বাঘারপাড়ার বন্দবিলায় বিএনপি নেতা শওকত আলী মণ্ডল হয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি। এক শীর্ষ জনপ্রতিনিধির আশীর্বাদে তারা দু’জন দুই ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আর এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নাটক শুরু হয় মফিজ উদ্দিনের। তিনি ছাত্রজীবনে যশোর ছাত্রমৈত্রীর সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। এরপর মূল সংগঠন ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতি করতেন। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগে যোগদান না করেই নৌকার মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

এমন তথ্য দিয়ে প্রেমবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলাম মিলন বলেন, মফিজ আওয়ামী লীগ করেন না। তিনি দলের সদস্য নন। এরপরও কীভাবে দল মনোনয়ন দিলো? এমন প্রশ্ন শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেলো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সভাপতি বাবুল আক্তারকে যদি দল পছন্দ না করে তাহলে সাবেক সভাপতিকে মনোনয়ন দিতো। তাই বলে ওয়ার্কার্স পার্টির লোককে নৌকা দিতে হবে।

অবশ্য নৌকা প্রতীক পাওয়া মফিজ উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি ২০১৩ সালের ২৫ মে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুল ওহাব এর হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগদান করেছিলেন। সেই সময় হুইপকে ফুল দেওয়ার ছবি পত্রিকায়ও ছাপা হয়।

তবে সাবেক হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব তার (মফিজ) যোগদানের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, সে যোগদান করতে চেয়েছিল। আমি তাকে বলেছিলাম ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের মাধ্যমে যোগদান করতে। কারণ আমি যোগদান করাতে পারি না। মফিজ বাড়িয়ে বলছে। দায়িত্বে থাকলে অনেকে দেখা করতে আসে। ফুল দিতে আসে। আসলে যোগদান হয়নি।

অন্যদিকে, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শওকত আলী মণ্ডলকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় হতবাক হয়েছেন অনেকেই।

তার বাহিনীর হাতে নিহত মনু মাস্টারের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান ভোলা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আমার বাবা সবসময় বর্তমান এমপি রণজিৎ কুমার রায়ের পাশে থেকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিতেন। আমার বাবাসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের খুন করল যারা তাদের প্রধানের হাতে ‘নৌকা` তুলে দেওয়া হলো! এটা কি মেনে নেওয়া যায়?

বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী এই মনোনয়ন দানে নিজের দায় নেই দাবি করে বলেন, শওকত তো ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। দলীয় নিয়ম-রীতি মেনে তিনি এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগে যোগদানই করেননি। ফলে তিনি কীভাবে নৌকা পেলেন তা বরং এমপি সাহেবকে (সাংসদ রণজিৎ রায়) জিজ্ঞেস করেন।

তবে শওকত আলী মণ্ডলের দাবি, তিনি চার বছর আগে বিএনপি ও যুবদলের তিন হাজার কর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। আগে বন্দবিলায় আওয়ামী লীগের কেউ কথা বলার সাহস পেত না। আমি এ দলে এসে আওয়ামী লীগকে মারাত্মক চাঙ্গা করে দিয়েছি।

এদিকে বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী টিএস আইয়ুব জানান, বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি থাকা অবস্থায় চাল-গম পাওয়াসহ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগ সাংসদের দলীয় সভা-সমাবেশে উপস্থিত হওয়ায় শওকত আলী মণ্ডলকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে শওকত আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন এমন কিছু তার জানা নেই।