মেইন ম্যেনু

কক্সবাজারের ঝাড়–ফুল দেশব্যাপী সমাদৃত

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার, থেকে: কক্সবাজারের বিশাল বনাঞ্চল থেকে ঝাড়–ফুল (আঞ্চলিক ভাষায় “ফু-রইন”) সংগ্রহের পর বাজারে বিক্রি করে সংসারের অভাব মোছন করতে সক্ষম হয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের আসাদ উল্লাহ ও একরামুল হক নামের ২ কাঠুরিয়া পাশ্ববর্তী বনাঞ্চল থেকে দীর্ঘদিন ধরে কাঠ, বাঁশ, লাকড়ী সংগ্রহের পাশাপাশি ঝাড়–ফুল (ফু-রইন)ও সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করেন।

সম্প্রতি পেশাদার কাঠচোর ও বনদস্যু কর্তৃক নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় করার কারণে বৃক্ষ শূণ্য হয়ে পড়েছে বনাঞ্চল। কাঠুরিয়া আসাদ উল্লাহ ও একরামুল হক এর মতো অসংখ্য লোকজনের সংসারে নেমে আসে অভাব অনটন। ২০১২ সালের দিকে ঈদগড় সড়ক দিয়ে রাখাইন সম্প্রদায় তথা আধিবাসীরা পাহাড়ী অঞ্চল থেকে ঝাড়–ফুল সংগ্রহ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করার ঘটনা দেখে তারাও এ পেশায় যোগ দেয়। এরপর থেকে নিয়মিত পাহাড়ী অঞ্চলের এ ঝাড়–ফুল সংগ্রহ করে কাঠুরিয়া আসাদ উল্লাহ ও একরামুল হক এর ভাগ্য বদলাতে জীবন যুদ্ধে নেমে পড়ে তাদের অভাব মোছন হয়।

নাপিতখালী গ্রামের আসাদ উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী গহীন অরণ্য থেকে ঝাড়–ফুল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়াও ভবিষ্যতের জন্য কিছু কিছু অর্থ সঞ্চয় করি। এ সব ঝাড়–ফুল বিক্রি করে দিনে অন্তত ২/৩ হাজার টাকার উপরে আয় করে থাকি। এ আয়ের উপর নির্ভর করে আমার পুরো সংসার চলে। বিগত ৪ বছরে সংসারের ব্যয়ের পর অন্তত ব্যাংকে আসাদের প্রায় ২লক্ষ টাকা মতো গচ্ছিত রয়েছে। আসাদ উল্লাহ ও একরামুল হক এর দেখা-দেখি এলাকার আরো অনেকেই পাহাড়ী অঞ্চল থেকে লাকড়ী কুড়ানো বাদ দিয়ে ঝাড়–ফুল সংগ্রহ করে তা বিক্রির দিকে ঝুকে পড়ছে। এতে করে সদর উপজেলার সহ প্রত্যন্তাঞ্চলের জনপদের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে প্রায় অর্ধশতাধিক বেকার যুবক আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল হয়ে উঠেছে এবং এই ঝাড়–ফুল (ফু-রইন) পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় দেশব্যাপী ব্যবহাকারীদের মধ্যেও ব্যাপক সমাদৃত হচ্ছে।

কাঠুরিয়া একরামুল হক এর মতে, সরকারীভাবে পৃষ্টপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের পরিত্যক্ত জায়গায় ঝাড়–ফুল (ফু-রইন) চাষ করে বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ এ খাত থেকে আয় করা সম্ভব। এ ছাড়াও সরকারী ঋণ সুবিধা পেলে তো আর কোন কথাই নেই। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারী ভাবে সুষ্ঠ পরিকল্পনা, উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে ঝাড়–ফুল দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব হতো।