মেইন ম্যেনু

কক্সবাজারের সৈকত জুড়ে চলছে চিংড়ী পোনাসহ জীববৈচিত্র নিধনযজ্ঞ

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার থেকে: বিশ্বের দৈর্ঘ্যতম কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত। ১২০কিঃমিঃ দৈর্ঘ্য সৈকতের বেশীরভাগ স্থানে মশারীর জাল দিয়ে স্থানীয় চিংড়ী পোনা আহরণের নামে চালাচ্ছে সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতীর কাছিম সহ মাছের পোনা নিধনযজ্ঞ। এখানে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও বিলুপ্তপ্রায় কাছিমের পোনা। একদিকে প্রতিদিন সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে। অপরদিকে এসময় সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়া মৌসুম হওয়ায়, সমুদ্রতীরে ডিম পাড়তে এসে ফিরে যাওয়ার সময় মশারী জালে আটকা পড়ে ব্যাপক হারে সামুদ্রিক কাছিমের মৃত্যু হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, কক্সবাজারের উপকূলের বহু সংখ্যক মশারী জাল বিভিন্ন স্থানে পাতা হচ্ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ডায়বেটিক পয়েন্ট, নাজিরারটেক এবং টেকনাফের মহেশখালীয়াপাড়া, তুলাতুলী, লম্বরী, বাহারছড়া, শাপলাপুর, শাহপরীরদ্বীপ জুড়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার এলাকায় ভ্রাম্যমান পোনা আহরণকারীরা নির্বিচারে মশারীর জাল ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ চিংড়ী পোনা ধরছে। চিংড়ী পোনার সাথে আসা অন্য প্রজাতির মাছের পোনাগুলো আহরণকারীরা মাটিতে পুঁতে ফেলে। এতে করে সাগর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য পোনা নিরবে নিভৃতে ধ্বংস হচ্ছে। তার সাথে ব্যাপক হারে ঝুঁকির মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র। এ অবৈধভাবে চিংড়ী পোনা নিধনের কাজে জড়িত এলাকাবাসীর সাথে বেকার রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ সম্পৃক্ত রয়েছে বলেও জানা যায়।

আরও জানা যায়, পোনা নিধনযজ্ঞে রোহিঙ্গারা সরাসরি জড়িত বলে স্থানীয়রা দাবী করে বলেন, তারা কোন রকম কয়েকটি মশারীর তৈরী জাল জোগাড় করে বিনা মূলধনে সাগর হতে চিংড়ী পোনা সংগ্রহ করে প্রতিদিন ৭০০/৮০০ টাকা আয় করছে। প্রতিদিন ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত আহরণকারী রোহিঙ্গা নারী পুরুষেরা কয়েক কোটি পোনা নিধন করছে। তবে সচেতন মহলের অভিযোগ সংশি¬ষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না বলেই দিন দিন পোনা নিধন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে হ্যাচারি শিল্প এসোসিয়েশনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এভাবে নির্বিচারে সাগর হতে চিংড়ী পোনা সংগ্রহের সাথে অন্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করা হলে একদিকে চাহিদা অনুযায়ী মাছ উৎপাদন হবে না ঘাটতি দেখা যাবে। অপরদিকে অপরিকল্পিত ভাবে চিংড়ী পোনা আহরণ করা না হলে হ্যাচারি শিল্প অচিরই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।