মেইন ম্যেনু

ভেসে উঠছে গ্রামীণ অবকাটামোর ক্ষতচিহ্ন, ত্রাণের জন্য হাহাকার

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি, নামছে পানি

গত ছয়দিনের একটানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে দ্রুত। এতে ভেসে উঠছে ক্ষয়-ক্ষতির ভয়াবহ চিহ্ন। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষও ফিরতে শুরু করেছে নিজ ঘরে। কিন্তু ঘরে ফিরে দেখেন, এসব মানুষের সব সম্বলই বিলীন হয়ে গেছে। বাসস্থান, খাবার, বিশুদ্ধ পানি সহ বাড়ীর মজুদকৃত সব সম্বলই নষ্ট হয়ে গেছে। এক মাসের ব্যবধানে পর পর দু’বার ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের বাসস্থান, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে দূর্গত এলাকা জুড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন ব্যক্তি-সংস্থা ত্রাণ বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল।

বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে ও সাগরের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে উপকূল। কমেনি বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ। বৃষ্টি কম হলেও উজান থেকে নেমে আসছে পাহাড়ী ঢল। এখনো উত্তাল রয়েছে সাগর। ৩ নং সর্তক সংকেত বলবৎ রয়েছে । বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। নিচু এলাকায় বাড়ছে পানি।

কক্সবাজার জেলায় শতাধিক গ্রামের ২ লাধিক মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় জন দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পূর্নিমার তিথীর কারনে জোয়ারের পানিতে জেলার উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
ছয় দিনের টানা বর্ষনে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজারের জনজীবণ বির্পযস্ত হয়ে পড়েছে। সে সাথে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের কারনে সাগর উত্তল রয়েছে।

বন্যায় চকরিয়া, রামু, পেকুয়া,কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের পানি বন্দি হাজার হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। দূর্গত এলাকার লোকজন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র সড়ক ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে না খেয়ে আছে পানি বন্ধী হয়ে থাকার কারনে।
নিজের এলাকাকে দূর্গত এলাকা ঘোষনার পাশাপাশি এখনো সরকারী ত্রান না পাওয়ার অভিযোগ চকরিয়া-পেকুয়া সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, নিজের ফান্ড থেকে ২০ মেট্রিক টন চাউল দিয়েছি আমার সংসদীয় এলাকায়। পূর্নিমার তিথীর কারনে সাগরে পানির উচ্চতা বেড়েগেছে। ফলে পানি নামছে খুব ধীর গতিতে।

এবারের বন্যাকে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা উল্লেখ করে পানিবন্দী থাকার কথা জানান এ জনপ্রতিনিধি। চকরিয়ার বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন আরিফ জানান, তার এলাকার ৮০ ভাগ বাড়ী ঘর এখনো পানির নিছে।

বুধবার মহেশখালীতে নিহত হয়েছে শিশুসহ অন্তত: ৪ জন, আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। বন্যায় তলীয়ে গেছে অসংখ্য কাঁচা বাড়ি। গোটা উপজেলা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের নিরাপদে নিয়ে আসতে সন্ধ্যার পর থেকে প্রশাসনের নানামুখি তৎপরতা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, বন্যায় কক্সবাজার জেলা সদর, রামু, চকরিয়া, ও পেকুয়া উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে অন্তত ৫ লাখ মানুষ। গবাদি পশুসহ ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চিংড়ি ঘের, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কক্সবাজার সদরের বন্যা কবলিত এলাকাগুলো থেকে এরই মধ্যে পানি নামতে শুরু করেছে।বৃষ্টি কমতে শুরু করে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে। যার কারনে দূর্গত এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে। পানি নামার সাথে সাথেই ভেসে উঠছে বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির ভয়ানক দৃশ্য। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক, মেরিন ড্রাইভ সড়ক সহ বেশ কয়েকটি সড়কে বুধবার থেকে যোগাযোগ স্থাপিত হলেও অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কে এখনো যোগাযোগ বন্ধ আছে। বন্যা দূর্গতরা জানান, আশ্রয় কেন্দ্রে তাদের কিছু খিচুড়ী, এক টুকরো গুড় ও ২৫০ গ্রাম চিড়া দেয়া হয়েছে। এসব খেয়েই কোন মতে অনাহারে-অর্ধাহারে তিন দিন অতিবাহিত করেছেন। এখন নিজের বাড়ীতে ফিরে অনাহারেই কাটছে দিন। বাড়ীর সব কিছুই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখনও বাড়ি পানিতে সয়লাব। নলকূপও পানির নিচে। এ অবস্থায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ঘুমানোর স্থানের তীব্র সংকটে ভূগছে তারা।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা বলেন, এখনো বন্যার পানি নেমে যায়নি। ফলে তা নিরুপন করা সম্ভব না। পানি নেমে গেলেই ক্ষতির বিষয় টি দেখা হবে বলে তিনি জানান। তবে এ বারের বন্যায় জেলার ৬ উপজেলায় ৪৭ ইউনিয়নে ক্ষতি হয়েছে এবং এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় ২ শ’ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, চকরিয়া-পেকুয়ার বানবাসিদের খাবারের জন্য চটপট করছে। পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে । তবে মাতামুহুরী নদী সংযুক্ত ছড়াখালগুলো ভরাট থাকায় জলাবদ্ধতায় পাহাড় ঘেষা গ্রাম এবং উপকুলীয় এলাকার গ্রামে প্রবেশ করা জোয়ারের পানির কারণে বুধবার পর্যন্ত টানা ৬ দিন পানিবন্দী রয়েছে ৩ লক্ষাধিক মানুষ । বানবাসিরা খাবারের জন্য চটপট করছে । সরকারী ত্রাণ পৌঁছেনি প্লাবিত এলাকায় । উপকুলের মানুষ সাগরের জোয়ার থেকে রক্ষা পেতে উচু বেড়ি-বাঁধ এবং উজানের মানুষ পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পেতে মাতামুহুরী নদীতে ড্রেজিংসহ ছড়াখালগুলোর খনন দাবী করেছেন । অন্যদিকে দু’উপজেলায় টানা ৬ দিন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় দূর্ভোগ আরো বেড়েছে পানিবন্দী মানুষের ।

কক্সবাজার জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ৪০ মেট্রিক টন চাল দেয়া হয়েছে। পাহাড় চাপায় নিহতদের দেয়া হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।