মেইন ম্যেনু

কক্সবাজারে ভেজাল এনার্জি ড্রিংকসের ছড়াছড়ি, প্রশাসন নির্বিকার

মোঃ আমান উল্লাহ, কক্সবাজার : কক্সবাজারের সর্বত্র বিভিন্ন ব্যান্ডের ভেজাল এনার্জি ড্রিংকস এর ছড়াছড়ি। এমন কোন স্থান নেই যেখানে এনার্জি ড্রিংকস পাওয়া যায় না। এনার্জি ড্রিংকস পানকারীদের মধ্যে বেশীর ভাগই তরুন। এসব এনার্জি ড্রিংকস যারা পান করছে তারা জানে না এতে কি আছে।

জেলার ৮টি উপজেলার অর্ন্তগত প্রত্যন্ত এলাকার প্রত্যেক হাটে বাজারে অবস্থিত যে কোন দোকানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় বিভিন্ন ব্রান্ডের ভেজাল এনার্জি ড্রিংকস। কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহর এলাকা ছাড়াও গ্রামে গঞ্জে এমনকি পাড়া মহল্লায় অবস্থিত পানের দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এসব ভেজাল এনার্জি ড্রিংকস। তরুন-তরুনীদের মধ্যে ড্রিংকস এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া অনেক কর্মজীবী ও পেশাজীবীরাও এর ক্রেতা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আনুমানিক অর্ধশতাধিক কোম্পানী বিভিন্ন ব্রান্ডে এনার্জি ড্রিংকস বাজারজাত করে আসছে।

মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় ৫০টি কোম্পানীর এনার্জি ড্রিংকসের গুনগত মান পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওইসব কোম্পানীর বাজারজাতকৃত ড্রিংকস এর মধ্যে বায়াগ্রা, ফেন্সিডিল এর উপাদান সহ মাত্রাতিরিক্ত এলকোহল পাওয়া যায়। প্রায় শতাধিক ড্রিংকস নামে বেনামে তৈরী করে বাজারজাত করে আসছে। যেসব এনার্জি ড্রিংকস বাজারজাত করে বেচা কেনা করে আসছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রেডবোল, টাইগার, হর্স, ডবল হর্স, ব্ল্যাক হর্স, হর্স পাওয়ার, পাওয়ার, প্রীড, জিনছিং পাওয়ার ইত্যাদি। এসব এনার্জি ড্রিংকস তৈরী করে বাজারজাত করার জন্য বৈধভাবে কোন প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়নি বলে জানান মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর।

নজরদারীর অভাবে দিনের পর দিন এনার্জি ড্রিংকসের নামে প্রতারনা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অতিরিক্ত এলকোহল মিশ্রিত এনার্জি ড্রিংকস পান করার কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি, গর্ভপাত, মারমুখী আচরণ সহ মানব দেহে ও মনে নানা খারাপ উপস্বর্গ দেখা দিতে পারে।

এ ব্যাপারে সুশিল সমাজ বাজারজাতকৃত এসব ভেজাল এনার্জি ড্রিংকস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।