মেইন ম্যেনু

সংগৃহিত চালের মান পরীক্ষার দাবী

কক্সবাজারে সরকারি ৫টি খাদ্য গুদামে চাল সংগ্রহে চরম দুর্নীতি

সরকারি খাদ্যগুদামে চলতি মওসুমের চাল সংগ্রহে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খাদ্যগুদাম গুলোতে দূর্নীতির মাধ্যমে সংগ্রহকৃত চালগুলোর মাননিয়ন্ত্রনের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর দাবী উঠেছে। অবৈধ কমিশন ভিত্তিক কতিত রাইচমিল মালিক নামের কালোবাজারিদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয় করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কোন কৃষকের কাছ থেকে একমুঠো ধানও কেনা হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জেলার কালোবাজারি সিন্ডিকেট নিম্নমানের চাল কিনে তা সরকারীখাদ্য গুদামে সরবরাহ দিয়েছে বলে অভিযোগ।

এভাবে নিম্নমানের চাল রামু খাদ্যগুদামে নেয়ার সময় আটক করেন জেলা নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা। একই অভিযোগে উখিয়া খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছ। দুর্নীতিবাজ খাদ্য কর্মকর্তা ও কালোবাজারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবীতে মানববন্ধন করেছে রামুর কৃষকরা। এই দুইটি খাদ্যগুদাম সহ কক্সবাজার সদর, চকরিয়া ও টেকনাফের খাদ্যগুদামে ইতোমধ্যে কালোবাজারিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা চালগুলো মাননিয়ন্ত্রনের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর দাবী জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।

সংশি¬ষ্ট দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় ছয়টি উপজেলার ৫টি খাদ্যগুদামে জেলায় এবার ৮৪৯২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে সরকার। সে মোতাবেক স্থানীয় খাদ্য বিভাগ বেশ কিছু মিলারকে চুক্তিবদ্ধ করেছে। এরই মধ্যে জেলার ৬ উপজেলায় ৫টি সরকারি খাদ্যগুদামে চলতি মওসুমের চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। ৩১ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করার চুক্তি করেন মিলাররা। কিন্তু খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বেঁধে দেয়া উৎকোচ দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা।

ইতোমধ্যে ৫টি গুদামে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেঃ টন চাল সরবরাহ হয়েছে বলে জানান খাদ্য বিভাগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা তানভীর হোসেন সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ অনিয়মের মাধ্যমে কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করেছেন। ওই সব এলাকায় যে সব রাইচ মিলগুলোর সাথে চক্তিবদ্ধ হয়েছে সে সব মিল মালিকরা একমুঠো ধানও স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করেনি। নাম সর্বস্ব কিছু রাইচ মিলের সাথে গোপন চুক্তি করে তারা কম দামে ও নিম্নমানের চাল (খাবার অনুপযোগী) ওই সিন্ডিকেট হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বগুড়া, আশুগঞ্জ, চাক্তাই সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে সরকারী সরকারি বিনির্দেশ বহির্ভূত ভাবে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করছে। এ কালোবাজারি সিন্ডিকেট এর সদস্যরা হলো উখিয়ার আবদু রহিম, কক্সবাজারের রফিক, সাগর, বুলবুল, লিংকরোডের আকতার সহ আরো ৮/১০ জন কালোবাজারি সিন্ডিকেট।

কাগজেপত্রে দেখাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে তা মিলিং করে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। অনেক স্থানে চুক্তিবদ্ধ হওয়া রাইচ মিলের অস্থিত্বও খুজে পাওয়া যায়নি।

চুক্তিবদ্ধ হওয়া রাইচমিলগুলো যে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করেনি তার জলন্ত প্রমাণ হচ্ছে গত কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, যে পরিমাণ ধান মিলিং করা হয়েছে বলে দাবী করা হচ্ছে ইে পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল ওই সব মিলগুলোতে আসেনি।

যদিও বা তাদের দাবী সংশি¬ষ্ট মিলগুলোতেই ধান মিলিং করা হয়েছে। এখানে প্রশান হচ্ছে যদি ধান মিলিং করে তাহলে তাদের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে। কিন্ত তা না হয়েছে বিল রয়েছে স্বাভাবিক। তাহলে তারা কি চোরাই বিদ্যুৎ দিয়েই ধান মিলিং করেছে এমনটা প্রশান সচেতন মহলের।

ঘোর অভিযোগ রয়েছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা তানভীর হোসেন প্রত্যেক মিলারদের কাছ থেকে চুক্তির সময় টন প্রতি ২ হাজার পাঁচ’শ টাকা , উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর শাহ জামাল, রামুর ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা, খাদ্য পরির্দশক মিলে প্রতিটন ২ হাজার টাকা ও গুদামে চাল বুঝিয়ে দেয়ার সময় মাননিয়ন্ত্রণ ও ওজন করার সময় টন প্রতি ৫’শ টাকা উৎকোচ নেয়া হয়েছে বলে সংশি¬ষ্ট সুত্র গুলো জানান। তাই চাল সংগ্রহের সময় অবাধ অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হচ্ছে।

সাধারণ মিলাররা অভিযোগ করেন, চকরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শশীধর চাকমা, কক্সবাজার সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা শাহ জামাল, রামু উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা সুজিত বিহারী সেন, উখিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও টেকনাফ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও সংশি¬ষ্ট খাদ্য পরির্দশক ও মিল মালিক সমিতির নেতাদের যোগসাজশেই উৎকোচ আদায় করা হয় । এতে অনেক মিলার নিমানের চাল দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চকরিয়া উপজেলার একজন মিল মালিক বলেন, সরকার বেশি দামে চাল কেনায় মিলাররা এবার কিছুটা লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্ত প্রতি টনে খাদ্য বিভাগের লোকজনকে প্রায় প্রতি কেজিতে ১০/১১ টাকা ও গাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ করে আর লাভের কিছুই থাকছে না।

তিনি আরো জানান, সরকারি গুদামে চাল দিতে গিয়ে প্রতি বছরই সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিতে হয়। এবার মিল মালিক সমিতির জেলা ও উপজেলা নেতারা সেই উৎকোচের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় হার আরো বেশি ধরা হয়েছে। রামু এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ ক’জন মিলার অভিযোগ করেন, উৎকোচ না দিয়ে সরকারি গুদামে চাল দিতে গেলে চাল মানের হয়নি এমন অজুহাত দেখিয়ে ফেরত পাঠান কর্মকর্তারা। এতে আরো ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। মিলমালিক নেতাদের সাথে জড়িত থাকায় কোনো প্রতিবাদও করা যায় না।

তারা আরো জানান, এবার শুধু বোরো মওসুমের চাল সংগ্রহ অভিযানেই সংশি¬ষ্ট জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য পরির্দশক ও ওসিএলএসডি কর্মকর্তারা কয়েক কোটি টাকার উৎকোচ পকেটে তুলছেন।
কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে খাদ্য অধিদপ্তর সারা দেশে অভ্যন্তরীন বোরো চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। বাজার দাম স্থীতিশীল ও কৃষকদের ন্যার্য্য মূল্য নিশ্চিত এবং আপতকালীন খাদ্য সংকট মোকাবেলা করার লক্ষ্যে মূলত চাল সংগ্রহ কর্মসূচী চালু করা হয়।

তবে চাল সংগ্রহে দুর্নীতি হয়নি বা হচ্ছে দাবী করে তিনি বলেন, উখিয়া উপজেলায় চাল সংগ্রহ অভিযান বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা খাদ্য শস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন । গত বুধবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট সোহাগ চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছ। তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত চাল সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে বলে জানান।