মেইন ম্যেনু

হাওয়ায় উড়ে সমুদ্র দেখা। থাইল্যান্ড নয়, এখন কক্সবাজারেই করতে পারবেন প্যারাসেইলিং

১৫ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উড়তে উড়তে আকাশ থেকে দেখা যাবে সমুদ্র। আর এ জন্য দরিয়ানগরে ভিড়ও জমছে পর্যটকদের। ১২ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ মানুষই নিতে পারবে আকাশে ওড়ার স্বাদ

রক্তচাপ পরীক্ষার পর লাইফ জ্যাকেট পরানো হলো অপেক্ষমাণ পর্যটককে। এরপর মাটিতে পড়ে থাকা প্যারাস্যুটের দড়ি ধরে দৌড়ে এলেন একজন। রংধনু রঙের বিশাল প্যারাস্যুটের বেল্ট কোমরে বেঁধে দেওয়া হলো তাঁর। এরপর স্পিডবোট ছুটতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে উড়লেন তিনি।

সারা বিশ্বে জনপ্রিয় প্যারাসেইলিং নামের মানব ঘুড়ির দেখা মিলল কক্সবাজার সৈকতের দরিয়ানগর পয়েন্টে। আকাশে ভেসে বেড়ানোর এই ক্রীড়াশৈলীর আয়োজক স্যাটেলাইট ভিশন সি স্পোর্টস নামের ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান। ১৫ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উড়তে উড়তে আকাশ থেকে দেখা যাবে সমুদ্র। আর এ জন্য দরিয়ানগরে ভিড়ও জমছে পর্যটকদের। ১২ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ মানুষই নিতে পারবে আকাশে ওড়ার স্বাদ।

১৭ অক্টোবর দরিয়ানগর পর্যটনপল্লি এলাকার সৈকতে গিয়ে দেখা গেল পর্যটকের ভিড়। বিশাল সমুদ্রসৈকতে উড়ছে প্যারাস্যুট। দ্রুতগতির স্পিডবোট টানছে প্যারাস্যুটি। মাত্র ১৫ মিনিটের এই আয়োজনকে নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে সদা ব্যস্ত ভিশন সি স্পোর্টসের কর্মীরা। তাঁদের কাছ থেকে জানা গেল ১২ থেকে ৬০ বছর বয়সের যেকোনো সুস্থ মানুষ প্যারাসেইলিং করে আকাশে ওড়ার স্বাদ নিতে পারে। এ জন্য খরচ হবে মাত্র দেড় হাজার টাকা। তবে উচ্চ রক্তচাপে আছে এমন কারও জন্য নিরাপদ নয় এই খেলা। এ জন্য আকাশে ওড়ার আগে রক্তচাপ মাপার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে এসেছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল জহির। স্বেচ্ছাসেবীরা তাঁকে লাইফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে দিলেন। রক্তচাপ পরীক্ষার পর প্যারাস্যুটের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হলো তাঁর শরীর। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা উড়ে গেলেন আকাশে।
প্রস্তুত পর্যটক। টান পড়েছে দড়িতে। এবার উড়তে উড়তে সমুদ্র দেখার পালাবিশাল আকাশ ঘুরে এসে আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, ‘দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং আছে খবর পেয়ে ছুটে এলাম। জীবনের প্রথম সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বেশ মজা পেলাম। সবচেয়ে বেশি মজা পাই সমুদ্রের মাঝখানে গিয়ে। প্রায় ৪০০ ফুট উঁচু আকাশ থেকে সমুদ্র আর পাহাড় দেখার মজাই আলাদা।’

স্যাটেলাইট ভিশন সি স্পোর্টসের মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমদ ফরায়জী জানান, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে দরিয়ানগর সৈকতে তাঁরা প্যারাসেইলিং করছেন। তবে সেটি নিয়মিত ছিল না। এবার কোরবানির ঈদের পর থেকে নিয়মিতই প্রতিদিন চার ঘণ্টার জন্য প্যারাসেইলিংয়ের আসর বসছে। এর আগে ২০০৯ সালেও সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁরা। ভালো ব্যবসা হলেও পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বলে প্রশাসন সে স্থান থেকে খেলাটি সরিয়ে হিমছড়ির কাছে অবস্থিত দরিয়ানগর এলাকায় স্থানান্তরিত করতে পরামর্শ দেয়। তবে শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় নির্জন এই সৈকতে আগের মতো ব্যবসা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

ইফতেখার আহমদ আরও জানান, এই খেলার আয়োজন করতে দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। বিশেষ ধরনের স্পিডবোট আনতে হয়েছে। বোট চালক সোহেল রানা বহু বছর মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সেখানে তিনি প্যারাসেইলিং খেলার স্পিডবোট চালাতেন। রানা ছাড়াও ১৩জন কর্মী প্যারারাসেইলিং খেলা নিরাপদ করতে খাটছেন।

প্যারাসেইলিংয়ের আনন্দ উপভোগ করতে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সৈকতে বিচ বাইক ও স্পিডবোট। এসব নিয়ন্ত্রণে পাশাপাশি প্রশাসনের সহায়তা পেলে প্যারাগ্লাইডিং আর ওয়াটার বাইক চালুরও পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান।



« (পূর্বের সংবাদ)